শিরোনাম

দিনাজপুর, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ আসনে (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক উন্নয়নমূলক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজেডএম রেজওয়ানুল হক এ অঞ্চলের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি প্রতিপালন, গণভোটের গুরুত্ব এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) দিনাজপুর জেলা সংবাদদাতা রোস্তম আলী মন্ডল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
এজেডএম রেজওয়ানুল হক : আমার নির্বাচনী আসনটি চাঁদাবাজদের অপতৎপরতা মুক্ত করতে চাই। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্টদের শাসনামলে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের উত্থান হয়েছে। যা এই দুটি উপজেলায় শান্তি প্রিয় জনগণের বসবাসে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলতে চাই।
পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির উত্তোলিত সম্পদ লুটপাট বন্ধ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ইনশাল্লাহ। সেইসঙ্গে এলাকায় বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
এজেডএম রেজওয়ানুল হক : আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য মরহুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিক। আমি ও আমার নেতা কর্মীদের প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনের আইন ও আচরণবিধি মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ভোটের শেষ দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
এজেডএম রেজওয়ানুল হক : জুলাই আন্দোলন এদেশের ছাত্র-জনতা এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলন কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
আমি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে একমত পোষণ করছি। এ জন্য আমার প্রচারণা শুরু থেকেই। আমার নিজের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি হ্যাঁ, গণভোটের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
এজেডএম রেজওয়ানুল হক : আমি দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছি। কিন্তু আমাকে কোনো এক অশুভ শক্তির কারণে ধানের শীষের প্রতীক দেওয়া হয়নি। আমি হাই কমান্ডকে অনুরোধ জানিয়েছি, আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হোক। সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
দিনাজপুর-৫ আসনটি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে দুটি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। আসনটিতে মোট ১৪১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ, ৭৭ হাজার ৫১৬ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৪ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩০ জন নারী এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচনে আসনটির অন্য ছয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন, বিএনপি মনোনীত ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান, এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ, জাতীয় পার্টির কাজী মো. আব্দুল গফুর, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু, এডভোকেট মো. হযরত আলী বেলাল ও মো. রুস্তম আলী।