শিরোনাম

পঞ্চগড়, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)।
তিনি দলটির উপজেলা কমিটির শূরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফি। এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রস্তাবিত জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন সফিউল্লাহ সুফি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা আবু নাঈমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি পালন, গণভোট ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
সফিউল্লাহ সুফি : গত ৫৪ বছরে দেশে যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই বৈষম্য করে গেছে। সেই বৈষম্য থেকে আমার নির্বাচনী এলাকাকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে চাই। আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখি ৪ তলা ভবন, আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখি জরাজীর্ণ- আমরা এই বৈষম্য দূর করতে চাই। মূলত এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বৈষম্য দেখি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সবখানে সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যা কিছু পিছিয়ে আছে, তার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবো।
আমি যখন ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, তখন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার সম্মানী ভাতা জনকল্যাণে ব্যয় করেছি। এবারও সংসদ সদস্য হতে পারলে প্রাপ্য সম্মানী এলাকার উন্নয়নে ব্যয়সহ মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেবো। সর্বোপরি দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
সফিউল্লাহ সুফি : আচরণবিধি পালনে নির্দেশনা আমার নয়, আমীরে জামায়াতের। উনি যা বলেন আমরা তাই অনুসরণ করি। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে- আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কোনো কাজ করবো না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
সফিউল্লাহ সুফি : জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নতুনভাবে স্বাধীনতা পেয়েছি, উন্মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। যেহেতু এ বিষয়ে একই দিনে গণভোট হবে, আমরা সেই ভোটে ‘হ্যা’ জয়যুক্ত করতে চাই। আমাদের নেতাকর্মীদেরও এই নির্দেশনা দেয়া আছে ‘হ্যা’ এর পক্ষে থাকতে। আমরা এ ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
সফিউল্লাহ সুফি : বিগত তিনটি নির্বাচনে কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারিনি। এ অবস্থা শুধু আমার নয়; সারাদেশের মানুষেরই প্রত্যাশা- যেন সুন্দর পরিবেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যাতে সাধারণ মানুষ তাদের মত প্রকাশ করতে পারে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করছি- আসন্ন নির্বাচন একটি ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন হবে।
বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ২০টি ইউনিয়ন ও ১৩২টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
এ আসনে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। পরে আদালতের নির্দেশ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. কামরুল হাসান প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির উপজেলা কমিটির শূরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)।
এছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত মো. ইমরান আল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) মনোনীত মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত আশরাফুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে মাহমুদ হাসান সুমন।