বাসস
  ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন লুৎফে সিদ্দিকী

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

ডব্লিউইএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নরওয়ের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্গে ব্রেন্ডের আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নিয়ে লুৎফে সিদ্দিকী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন। এসব আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং তা বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেন।

আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বার্ষিক সভার বিভিন্ন উন্মুক্ত প্যানেলে লুৎফে সিদ্দিকী অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অর্থ ও বিনিয়োগ, সামাজিক আন্দোলন এবং সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক উচ্চপর্যায়ের রাউন্ডটেবিল আলোচনায় অংশ নেন। এর মধ্যে ভূরাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবস, কর্মসংস্থান তৈরি বিষয়ক আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, লিঙ্গ-সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি বিষয়ে আলোচনায় হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া এবং মিয়ানমার বিষয়ক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা।

এ ছাড়া তিনি আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীদের নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মশালায় অংশ নেন, যার সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রিকার্ডো হাউসম্যান।

বৈঠকের ফাঁকে লুৎফে সিদ্দিকী একাধিক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য স্কট বেসেন্ট, ইউরোপীয় কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলা, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসেই, কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ফিলিপ-শ্যাম্পেন, মিসরের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী ড. রানিয়া আল-মাশাত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জায়ুদি।

এ ছাড়া তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক ড. এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ, ইউএনসিটিএডির মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল, মানব পাচারবিষয়ক বৈশ্বিক কমিশনের চেয়ারম্যান থেরেসা মে এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

দাভোস সফরের অংশ হিসেবে লুৎফে সিদ্দিকী শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনি আমরাসুরিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রীলঙ্কার শ্রমমন্ত্রী অনিল ফার্নান্দো উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম, কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমাসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেন।

দাভোসে অবস্থানকালে তিনি মেটা, পেপ্যাল, ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং লুই ড্রেফুসসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পুরো সপ্তাহজুড়ে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন জেনেভায় বাংলাদেশের মিশনের প্রথম সচিব আবদুল্লাহ মাহাবুব।