শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রসর হওয়ার পথে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতিপথ নির্ধারণে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)।
আজ সোমবার সংস্থাটি থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিউজ বুলেটিন (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫)-এর সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঞ্চয় আহরণ, বাণিজ্যে অর্থায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভিযাত্রার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তবে কাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে জরুরি সংস্কার, সুশাসন এবং শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেছে আইসিসিবি।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করে, ঋণ বিতরণের সুযোগ কমায় এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আইসিসিবি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও প্রকৃত ব্যবসায়িক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার ওপর জোর দিয়েছে প্রতিবেদনে। এতে একদিকে আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে টিকে থাকতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তা পাবে।
বাংলাদেশের আর্থিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে, যাতে আর্থিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
আইসিসিবি জানায়, একীভূতকরণ ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগের সফলতা জবাবদিহি, সুশাসন এবং আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে বুলেটিনে।
প্রতিবেদনে শক্তিশালী, পেশাদার ও স্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আর্থিক চাপ মোকাবিলা, আস্থা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য।
গত দুই বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারল্য সহায়তা ও পুনঃঅর্থায়নসহ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।
আইসিসিবি বলছে, সংকটে জরুরি সহায়তা কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে খাতের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুশাসন ও দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে আর্থিক ব্যবস্থার রূপান্তর জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে আইসিসিবি। তাই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে।
উপসংহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব নয়। ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতায় দেশি-বিদেশি আস্থা অর্জন করতে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।