বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৩

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ

ছবি: বিজিএমইএ

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পের সুরক্ষায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ নেতারা বলেন, আশির দশক থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি। কিন্তু নিট পোশাক শিল্পের বাস্তবতা ও বাজার অর্থনীতিকে উপেক্ষা করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ যৌথভাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘আমরা বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ, উভয় সংগঠন আশা করি যে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে সরকার অনতিবিলম্বে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাতিল করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে এককভাবে নিট পোশাক খাতের অবদান প্রায় ৫৫ শতাংশ, যা প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এ খাতের ওপরই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিল্প প্রবৃদ্ধি ও লাখো মানুষের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল।

২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯.৭২ শতাংশ। একই সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই সুতা আমদানিতে ওজনে প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি বাড়লে কাঁচামাল আমদানিও বাড়বে-এটাই বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। কম দামে যেখানে মানসম্মত কাঁচামাল পাওয়া যাবে, সেখানেই ক্রেতা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ‘৩০ কার্ডেড’ সুতার দাম প্রতি কেজি ২.৫০ থেকে ২.৬০ মার্কিন ডলার, সেখানে দেশীয় মিলগুলো একই সুতা প্রায় ৩ ডলারে বিক্রি করতে চায়। প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০ সেন্টের এই ব্যবধান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পথে বড় বাধা।

সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম তার বক্তব্যে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্পিনিং ও পোশাক-উভয় খাতকে টিকিয়ে রাখার নীতিই দেশের অর্থনীতি ও কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের স্বার্থে সবচেয়ে জরুরি।