বাসস
  ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৮

শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ : সিআইডি’র প্রচেষ্টায় ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের আত্মসাৎকৃত অর্থে অর্জিত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, সিআইডি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সাবেক হিসাব রক্ষক খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের নামে থাকা ৩১ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন মহানগর দায়রা আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে- আত্মসাৎকৃত অর্থে মুগদা ও উত্তরার কাওলা এলাকায় ক্রয়কৃত ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি; ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৩০৩ দশমিক ২ শতাংশ জমি; সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর, বনশ্রী, বাসাবো ও উত্তরার কাওলা এলাকায় অবস্থিত ১৮টি ফ্ল্যাট; মুগদা, আফতাবনগর ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার। 

এগুলোর পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত অর্থে অর্জিত ২১টি মিনিবাস, ২টি হায়েস গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকাও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে সিআইডি’র অনুসন্ধানে উঠে আসে।

আত্মসাৎকৃত অর্থ ব্যবহার করে তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, যানবাহন ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআইডি বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে আত্মসাৎকৃত অর্থের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি’র  ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।