শিরোনাম

রংপুর, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর ও জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা গ্রহণ এবং এ প্রক্রিয়ার সব বাধা দূর করতে সাংবাদিকদের যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ রংপুরে আয়োজিত এক কর্মশালায় তারা এ আহ্বান জানান।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর রংপুর জেলা কমিটি নগরীর ইএসডিও ট্রেনিং সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে ‘ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর ও জ্বালানি সুবিচার’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে ক্যাব প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন পলিসি ২০২৪’ গ্রহণের সামাজিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজকে সম্পৃক্ত করতেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্যাব সভাপতি মো. আবদুর রহমান। এতে রংপুরের ৩০ জন গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ২০ জন ছিলেন ক্যাব সদস্য।
ক্যাব প্রকল্প সমন্বয়কারী মারুফা কলি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও ক্যাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ক্যাব গবেষণা সমন্বয়কারী প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়া জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং গবেষণা সহযোগী আনিস রায়হান জ্বালানি ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করেন।
ক্যাব যুব সংসদ সদস্য আরাফি সিরাজি অন্তর ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের সীমা নির্ধারণে ক্যাবের ১৩ দফার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শিক্ষক, লেখক, গবেষক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব, অদক্ষতা ও দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এর ফলে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দাম ও ভর্তুকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতি ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও জানান তারা।
বক্তারা বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো শুধু কারিগরি বা অর্থনৈতিক নয়; বরং এগুলো গভীরভাবে সামাজিক ও ন্যায়সংগত বিষয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত। জ্বালানি মানুষের একটি মৌলিক অধিকার এবং সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তারা আরো বলেন, জ্বালানি ও জ্বালানি রূপান্তরের বাস্তবতা হলো— জ্বালানি আধুনিক সভ্যতার প্রাণশক্তি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিল্প ও কৃষি সবখাতেই জ্বালানি অপরিহার্য।
যদিও বিশ্বের প্রায় সব জ্বালানির মূল উৎস সূর্য। তবে, স্থল ও সমুদ্রে বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদের মালিকানা জনগণের। বাংলাদেশের সংবিধানেও এ মালিকানা স্পষ্টভাবে স্বীকৃত।
কিন্তু, বাস্তবে এক শ্রেণির ক্ষমতাবান অভিজাত ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এসব সম্পদের চারপাশে স্বার্থান্বেষী বলয় গড়ে তুলেছে।
এর ফলে জ্বালানি খাত জনগণের পরিবর্তে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ প্রেক্ষাপটে ক্যাব প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ এনার্জি ট্রান্সফরমেশন পলিসি ২০২৪’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা জ্বালানিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর ও জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত বলে তারা উল্লেখ করেন।