বাসস
  ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭

একচেটিয়া আধিপত্য মামলায় মেটার জয়: আপিল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে করা অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা খারিজের আদালতীয় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, এফটিসির জনসংযোগ পরিচালক জো সাইমনসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণের মাধ্যমে মেটা আমাদের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এর ফলস্বরূপ আমেরিকান ভোক্তারা ওই একচেটিয়া ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

এফটিসি ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্টে আপিলের নোটিস দাখিল করেছে। দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।

আপিলের প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র বলেন, এফটিসির যুক্তি খারিজ করে আদালতের সিদ্ধান্ত ‘সঠিক’ এবং এটি ‘আমরা যে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে আছি, তা স্বীকার করে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উদ্ভাবন ও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে মনোযোগী থাকব।’

গত নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জেমস বোয়াসবার্গের দেওয়া রায়ে মেটা বড় ধরনের আইনি জয় পায়। এতে ২০২০ সালে শুরু হওয়া কোম্পানিটির ২০১২ সালের ইনস্টাগ্রাম ও ২০১৪ সালের হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটে।

বোয়াসবার্গ রায়ে বলেন, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে মেটা একচেটিয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না।

তিনি লেখেন, ‘প্রাসঙ্গিক বাজারে মেটার কোনো একচেটিয়া আধিপত্য নেই।’ বিচারক উল্লেখ করেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এখন ব্যবহারকারীদের সামনে প্রধানত অ্যালগরিদমভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখানো হয়, যা টিকটকের ফরম্যাটের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন।

আদালত উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান ব্যবহারকারীরা ফেসবুকে মোট সময়ের মাত্র ১৭ শতাংশ বন্ধুদের কনটেন্ট দেখায় এবং ইনস্টাগ্রামে এ হার মাত্র সাত শতাংশ। বেশিরভাগ সময়ই তারা অপরিচিতদের তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও ‘রিলস’ দেখে থাকেন।

এফটিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিচারক মামলার শুনানির সময়কার মেটার বাজার অবস্থানকে ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেননি—যা ছিল ‘খুবই অদ্ভুত’ পথ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি ছিল একটি মৌলিক ভুল, যার ফলে তিনি কার্যত কোম্পানিটির অসদাচরণকে আড়াল করে দিয়েছেন।’

বোয়াসবার্গের রায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিট্রাস্ট প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য আরেকটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে; আদালতে এসব মামলার ফলাফল মিশ্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে পাঁচটি বড় মামলা করেছে। এর মধ্যে গুগলের বিরুদ্ধে দুটি, আর অ্যাপল ও অ্যামাজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে এক ভিন্ন বিচারক গুগলকে ভেঙে দেওয়ার সরকারি আবেদন নাকচ করে দেন, যদিও তিনি সার্চ জায়ান্টটিকে অবৈধ একচেটিয়া হিসেবে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন। গত সপ্তাহে গুগল ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।