শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের নগর অবকাঠামোকে আরও নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপান সরকারের ওডিএ অর্থায়নে ঢাকায় নতুন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নতুন এই ভবনটি আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, ফায়ার সার্ভি সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি। অন্যদিকে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ইচিগুচি তোমোহিদে বলেন, এই নতুন সদর দপ্তরটি কেবল একটি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প নয়; বরং এটি দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে জরুরি সেবাগুলোকে শক্তিশালী, আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামোর মাধ্যমে সজ্জিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই সদর দপ্তরটি অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয়, উদ্ধার ও দ্রুত সাড়াদানের জন্য কেন্দ্রীয় কমান্ড হিসেবে কাজ করবে।
নতুন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ভবন যেখানে 'বেস আইসোলেশন' প্রযুক্তি ব্যবহার করা জাপানে বহুল ব্যবহৃত এই উন্নত প্রকৌশল প্রযুক্তি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময়ও ভবনকে কার্যক্ষম রাখে। এর মাধ্যমে জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশে ভবিষ্যতের দুর্যোগ-সহনশীল সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে একটি দৃস্টান্ত স্থাপিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ভবন ধসের পর নগর ভবন নিরাপত্তায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে 'আরবান বিল্ডিং সেফটি' প্রজেক্টটি গ্রহণ করা হয়। নতুন এই প্রকল্পটি সেই উদ্যোগেরই অংশ। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জাইকা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো জোরদারে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রকল্পটি জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। জাইকার মাধ্যমে জাপান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও দৃঢ় নগর উন্নয়নে বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে, যা নিরাপদ নগর ও শক্তিশালী জনপ্রতিষ্ঠান গঠনে উভয় দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করছে।