শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় কার্যক্রমে অধিকতর শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত অধিদপ্তর ও অধীনস্থ কার্যালয়সমূহের জন্য আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ সংক্রান্ত একটি সমন্বিত আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগ।
আদেশ অনুযায়ী, সরকার ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জারি করা পূর্ববর্তী আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত আদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলো বাতিল করে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন ও আইনগত সংস্কারের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি হালনাগাদ কাঠামো প্রণয়ন করেছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রথমবার আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালের পরিচালন বাজেট-সংক্রান্ত আদেশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে বিস্তৃত আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, এরপর ২০০০ ও ২০০৪ সালে সংশোধিত আদেশ জারি হয়। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ আদেশটি ২০১৫ সালে জারি হয়েছিল, যা উন্নয়ন ও অ-উন্নয়ন ব্যয় উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এরপর থেকে সরকারি কার্যক্রম, ক্রয় পদ্ধতি ও বাজেট বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া, ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’-এর সংশোধন এবং ‘সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের কাঠামো আরও আধুনিক ও সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
নতুন আদেশে নিউ বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম (বিএসিএস)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাতিষ্ঠানিক স্তর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ মডেলের ৩ থেকে ৮ নম্বর কলামে চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তর এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত দপ্তর ও অধীনস্থ কার্যালয়সমূহে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
সংশোধিত কাঠামোর আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব অথবা ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রধান হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা নিশ্চিত করবেন যে অনুমোদিত উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে, বাজেট সীমা মেনে চলা হচ্ছে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বরাদ্দের আশায় কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না।
আদেশে বাজেটের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার (চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার) সরবরাহকৃত হিসাবের সঙ্গে মাসিক ব্যয়ের সমন্বয় এবং নিরীক্ষা আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সরকারি দপ্তরগুলোর অভিন্নতা বজায় রাখতে একটি একক মডেল অনুসরণ করে যুক্তিসংগত সীমার মধ্যে সংযুক্ত দপ্তর ও অধীনস্থ কার্যালয়সমূহে আর্থিক ক্ষমতা।
এতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পৃথক সরকারি আদেশের মাধ্যমে যেসব কর্মকর্তাকে বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, তারা পূর্বের মতোই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে সংশোধিত আদেশে কোনো খাতে অধিকতর সীমা নির্ধারণ করা হলে, নতুন আদেশে উল্লিখিত উচ্চতর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই প্রযোজ্য হবে।
অর্পিত ক্ষমতার আওতায় জারি করা সব অনুমোদন সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে অনুমোদনটি এই আদেশে অর্পিত ক্ষমতার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে এবং অনুমোদিত বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রয়োজন, সে সব অনুমোদন সংশ্লিষ্ট উইংয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রেরণ করতে হবে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আদেশটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।