বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫২
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৪

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ময়মনসিংহ-২ আসনের সাবেক এমপি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ সোমবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

ময়মনসিংহে দায়ের করা এ মামলার নথি অনুযায়ী, কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করা হয় গত বছরের ৩০ জানুয়ারি।

দুদকের তদন্ত থেকে জানা যায়, শরীফ আহমেদ ২০১৪-১৫ করবর্ষের আগে মাত্র ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের তথ্য দেখালেও পরবর্তী সময়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তিনি মোট আয় দেখান ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার ১৮ টাকা। এর মধ্যে মৎস্য খাত থেকে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়ের দাবি করা হলেও এর পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, মৎস্য খাতের অগ্রহণযোগ্য আয় বাদ দিলে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৬৫ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮১ টাকা। ফলে ব্যয় বাদে তার গ্রহণযোগ্য নিট আয় মাত্র ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৪ টাকা।

তদন্তে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, শরীফ আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার ৫৮১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ২৩ কোটি ৮ লাখ ২৩ হাজার ৪০৯ টাকা জমা এবং ১৯ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৭ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়, যা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক। এসব লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

সার্বিকভাবে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত ধারায় চার্জশিট দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন।