বাসস
  ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৩

১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা করছি : তাহের

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” রোববার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছিল যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। কিন্তু সকল রাজনৈতিক দলের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে সেই বক্তব্য আজ অসার প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

ডা. তাহের বলেন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছিল। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখি। এজন্য আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।”

ভোটের দিন ভোটকেন্দরের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার কিংবা সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যেরই ভোটকেন্দরের ভেতরে প্রবেশ করা উচিত নয়। এতে ভোটারের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হতে পারে। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শুধু নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে নয়, যেদিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে সেদিন থেকেই নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কাউকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হচ্ছে, আবার কাউকে দেয়া হচ্ছে না। “আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল হিসেবে কেবল সমতা চাই—এর বেশি কিছু নয়,”।

ডা. তাহের বলেন, দুঃখজনকভাবে ইতোমধ্যেই তারা কিছু ভিন্ন ও উদ্বেগজনক চিত্র লক্ষ্য করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলছে এবং একই ধরনের মামলায় কোথাও প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, আবার কোথাও বাতিল ঘোষণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূলত দুটি বিষয়ের ওপর মনোনয়ন যাচাই হচ্ছে—ঋণ খেলাপি হওয়া এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব। ঋণ খেলাপির বিষয়টি বরাবরই স্পষ্ট থাকলেও দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে, যা বর্তমানে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

ডা. তাহের অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে যেসব মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা, সেগুলো বাতিল না হয়।

তিনি বলেন, “যে দলেরই হোক, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও যদি হয়, আরপিও অনুযায়ী নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো ধরনের চাপের কাছে নতিস্বীকার করা যাবে না।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যথায় দুটি বিষয় প্রমাণিত হবে—এক, নির্বাচন কমিশন দুর্বল এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা তাদের নেই; দুই, এই কমিশন কোনো একটি দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। এর ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও হতাশা তৈরি হতে পারে।

ডা. তাহের আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি দলের প্রধানকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, কাউকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা প্রটোকল দিলে তাদের আপত্তি নেই, তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরকেও একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে একই আচরণ ও সমান মর্যাদা দিতে হবে।

এছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা কিছু জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)-এর আচরণে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

ডা. তাহের বলেন, তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন যদি যথাযথ ভূমিকা না নেয়, তাহলে তিনি যেন সেখানে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান, তবে তার আশপাশে কিছু উপদেষ্টা রয়েছেন যারা তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন—এ বিষয়টিও তার নজরে আনা হয়েছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।