শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) টেকসই সরকারি ক্রয় (এসপিপি) নীতির আলোকে রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র আগারগাঁও এলাকায় একটি বহুতল ‘গ্রিন’ অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
গ্রিন ভবন হলো-এমন একটি ধারণা, যেখানে ভবনের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার প্রতিটি ধাপে পরিবেশবান্ধবতা এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়, যা ভবনের পুরো জীবনচক্র জুড়েই প্রযোজ্য।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত নতুন বিপিপিএ ভবন নির্মাণ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিপিপিএ সম্মেলন কক্ষে একটি প্রাক-ক্রয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সচিব এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ।
বিপিপিএ’র পরিচালক শাহ ইয়ামিন-উল ইসলাম নতুন অফিস ভবন নির্মাণ পরিকল্পনার সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে বেসরকারি খাতের নির্মাতা ও ডেভেলপার, স্থপতি, সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল প্রকৌশলীসহ গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি), স্থাপত্য অধিদপ্তর, হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পরিবেশ অধিদপ্তর, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং এইচবিআরআই’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন হায়দারসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রস্তাবিত বিপিপিএ’র গ্রিন অফিস ভবন নির্মাণ বিষয়ে তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেন।
নতুন কার্যকর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ (পিপিআর, ২০২৫)-এর আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলন ছিল এ ধরনের প্রথম আয়োজন। পিপিআর, ২০২৫-এর বিধানে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই উপযুক্ত ক্রয় কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে আগাম বাজার সম্পৃক্ততা বা প্রাক-ক্রয় সম্মেলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বিপিপিএ’র সিইও বলেন, ‘প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা কম পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ভবনের মোট ওজন হ্রাসের মাধ্যমে টেকসইতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, এ কারণেই প্রাক-ক্রয় সম্মেলনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে তাদের পেশাগত মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা টেকসই ভবন নির্মাণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি ‘গ্রিন ভবন’-এর পরিবর্তে ‘টেকসই ভবন’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব দেন এবং উল্লেখ করেন যে, টেকসইতা গ্রিন নির্মাণের সব দিককে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিপিপিএ’র এ উদ্যোগের প্রশংসা করে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের ভবন নির্মাণ সরকারের টেকসই সরকারি ক্রয় প্রসারে সামগ্রিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তারা বৈদ্যুতিক প্রকৌশলসহ নকশা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ভবনের নকশা প্রণয়ন বিষয়ে আলাদা একটি সম্মেলন আয়োজনেরও সুপারিশ করেন এবং পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায়েই টেকসই বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে বিপিপিএ’র সিইও জানান, প্রস্তাবিত টেকসই অফিস ভবন নির্মাণের প্রতিটি ধাপ তদারকির জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে।