বাসস
  ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৬

১১১তম শাহাদাত বার্ষিকীতে নবাব স্যার সলিমুল্লাহকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলো বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : তৎকালীন পূর্ববাংলার ভাগ্যহত ও পশ্চাৎপদ জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার শহীদ নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতির এই সূর্যসন্তানকে স্মরণ করে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছে।

সংগঠনটির সদস্যসচিব আরিফুল ইসলাম আবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ জানায়, উপমহাদেশের রাজনৈতিক জাগরণ ও শিক্ষাভিত্তিক অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ এই মহান নেতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন এক অনন্য সংগ্রামী নেতা। তার নেতৃত্ব, সাহস ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আজও শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শিক্ষা ও রাজনীতিকে কখনো বিচ্ছিন্ন করেননি বরং শিক্ষা ছিল তার রাজনৈতিক মুক্তির প্রধান হাতিয়ার। মুসলিম সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মমর্যাদাশীল নেতৃত্ব সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে তার অবদান ইতিহাসে অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীতে এই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্ত ভিত হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ আরও জানায়, বাংলার নিম্নবিত্ত মুসলমান, কৃষক ও প্রজাদের কল্যাণে যিনি সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তার জন্ম ও শাহাদাত বার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় কোনো আয়োজন না থাকা দুঃখজনক। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা যারা করেছিলেন, তাদের ঘিরে নানা আয়োজন নিয়মিত দেখা যায় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বড়লাটের নিরাপত্তা প্রহরীর গুলিতে আহত হয়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেন। মাত্র ৪৪ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি সর্বভারতীয় পর্যায়ে যে রাজনৈতিক প্রভাব রেখে গেছেন, তা তার পূর্বপুরুষ ও উত্তরসূরিদের অনেকেই অর্জন করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের মতে, আজকের রাষ্ট্রীয় সংকট, বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তার দেখানো পথে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সংগঠনটি।