বাসস
  ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৯

বাগেরহাট জেলা কারাগারে ৯১ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন

বাগেরহাট, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাগেরহাট জেলা কারাগারের ৯১ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। 

তাদের মধ্যে ৩৮ জন কারাবন্দী এবং ৫৩ জন কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সফটওয়্যারে নিবন্ধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহী ৩৮ জন বন্দীর মধ্যে ২২ জন কয়েদি এবং ১৬ জন হাজতি রয়েছেন। 

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজ নিজ সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় বন্দীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে এই কারাগারে ১৩ জন নারীসহ মোট ৫১৯ জন বন্দী রয়েছেন।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খন্দকার আল-মামুন বাসসকে জানান, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। 

তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হবে। 

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তারা গোপনীয়ভাবে ভোট প্রদান করবেন। এরপর পূরণ করা ব্যালট পেপার সিলগালা করে নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

জেলার খন্দকার আল-মামুন বলেন, ‘বন্দীরা যাতে নির্বিঘ্নে, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’

ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলার আরও জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আলাদা পোস্টাল ব্যালট পেপার, নির্দেশনাবলি এবং ঘোষণাপত্র নিবন্ধিত হাজতি ও কয়েদিদের কাছে পাঠানো হবে। 

ভোটাররা সজ্ঞানে এবং কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে গোপনে পছন্দের প্রতীকে চিহ্ন দেবেন এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপারগুলো নির্ধারিত খামে ভরে মুখ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন ভোটাররা। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে ডাকযোগে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার মোস্তফা কামাল বাসসকে জানান, ৩৮ জন কারাবন্দী ও ৫৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং যথাযথ নির্বাচনী আইন মেনেই এই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।