শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আজীবন আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জমি বরাদ্দ দাতা। অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আমীর খসরু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়গুলোতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী।
প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়াও চট্টগ্রামের ইউএসটিসি, ডায়বেটিক হসপিটাল, কিডনি হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন বেগম খালেদা জিয়া। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন, ক্যান্সার বিভাগে ওভাল মেশিন স্থাপন তাঁর আমলেই হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং এদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর প্রমুখ।