শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরাপত্তার অজুহাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (শাবিপ্রবি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহ হোসাইন আল মারুফসহ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর শাবিপ্রবির নির্বাচন হওয়ার কথা ২০ জানুয়ারি। মাঝে তিন সপ্তাহ সময় বাকি আছে। এই তিন সপ্তাহ আগে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীরা যাকে চায়, সেই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে। তাই এই ধরনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হলো, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ক্যাম্পাসের নেতৃত্ব দেয়া। ইতিমধ্যে ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ), জাকসু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ), চাকসু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ), রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এবং সর্বশেষ জকসু (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন সুস্থভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘গতকাল ইসির একটি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নির্বাচন বন্ধ করার অপপ্রয়াস আমরা দেখতে পেয়েছি। তবে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সচিবের সাথে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের যথাসময়ে নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। তারা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা প্রার্থীরা আবেদন করলে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঠিক সময়েই নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে।’
এ সময় ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) ইসির প্রজ্ঞাপন জারি করার পর শাবিপ্রবি নির্বাচনের বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের মতামত ও উদ্বেগের বিষয়গুলো কমিশনকে জানিয়েছি। কমিশন আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’