শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে এবং নিজের ভোটের প্রতিফলন পাবে।
এজন্য প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা থাকা জরুরি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এটি নিশ্চিত করতেই হবে।
তিনি বলেন,নির্বাচন সব সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু এটি শুরু। একটি ফেয়ার ইলেকশন মানে ফেয়ার সোসাইটির বীজ। আমরা বোঝাপড়ার নির্বাচন চাই না।
আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনের মতো নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না। মেকানিজম করার নির্বাচন চাই না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করে তাহলে সবাই মিলে এদেশ থেকে তাদেরকে পালাতে বাধ্য করবো।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চব্বিশের জটিল দিনগুলোয় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতি সিভিল ওয়ার থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখ আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।’
সব দল-মত এক হয়ে চব্বিশের আন্দোলনের অংশ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত এ পরিবর্তন, বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান আমরা যে ভাষাই বলি, তার কোনো ক্রেডিট দল হিসেবে আমরা দাবি করিনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত তিন নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি। কেউই ভোট দিতে পারেনি। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী।
আগামী নির্বাচনে ভোটারদের জন্য বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা আর ভোটের প্রতিফলন ফলাফল পেলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
তিনি আরো বলেন,’৭১-এ কোনো সিভিলিয়ানের মুখ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা প্রচারিত হয়নি; হয়েছে আপনাদেও মুখ দিয়ে। আপনাদেরকে স্যালিউট। এ বিষয়ে একবারই ইতিহাসরচনা হয়েছে, এটা অক্ষুণ্ন থাকবে। যে যত চেষ্টা করুক। অনেকে এই বিষয়টাকে অগ্রাহ্য করতে চান, ম্লান করতে চান—এটাআনজাস্ট, এটা হয় না। এ দায়িত্ব ছিল রাজনীতিবিদদের। তারাই দায়িত্ব পালন করলে সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে এগিয়ে আসার প্রয়োজন হতো না। তারাই দায়িত্ব পালন করেননি বলেই সেনাবাহিনীর একজন অফিসার এই মহান দায়িত্ব পালন করেছেন জাতির জন্য। তার এই অবদান কেউ অস্বীকার করলে আসলেই নিজেকে ভুলে যাওয়ার শামিল হবে।
এই জাতির গর্বের আরো কিছু নাম অবশ্যই গৌরবের। মুক্তিযুদ্ধেও সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আপনাদের এ অগ্রজ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী। তাকেও ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিলেন একজন যুবক—তার নামটাও আসে না। যার যেখানে অবদান, তার স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে এ জাতির জন্য কেউ এগিয়ে আসবে না এবং কোনো বীরেরও জন্ম হবে না।
তিনি আরো বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ছিল সবচেয়ে মজলুম দল। আন্দোলন দমাতে আমাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। জনগণ তা মানেনি। ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা ছাড়া সবাই এর প্রতিবাদ করেছে। আমরা দল রক্ষার জন্য নয়—দেশ ও জাতি রক্ষার জন্য লড়াই করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি আজ এক ক্রসরোডে দাঁড়িয়ে। আগামী মাসের ১২ তারিখ নির্বাচন। হাতে মাত্র ৩০ দিন। বিগত তিনটি নির্বাচন কোনো মিনিমাম ফরম্যাটেই পড়ে না। আমরা তরুণদের কথা দিয়েছি—এবার তোমরা ভোট দেবে, আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। এটি জাতির দায়িত্ব।
তিনি বলেন,আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—যেখানে তরুণরা কাজ পাবে, বেকার ভাতা নয়। যেখানে দুর্নীতি বন্ধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়—আমরা ১৮ কোটি মানুষেরমুক্তি চাই। দলের বিজয়ের সাথে জাতির বিজয় একসাথে চাই।