শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ( বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘কথিত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। ’
তিনি বলেছেন, ‘কথিত একটি রাজনৈতিক দল, যারা কোনোদিনই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিলো না, তারাই মূলত নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে খুন-সহিংসতাসহ নানা ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। নির্বাচন বানচালের উদ্দেশে নানা ধরনের অপচেষ্টা ও সহিংসতা করছে তারা। কারণ তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়।’
আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বারডেম হাসপাতাল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জনগণের পালস বুঝতে পেরেই জামানত বাজেয়াপ্তের ভয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার এসব অপচেষ্টা করছে তারা। পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাহিরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াতেও ব্যস্ত তারা। জনগণ তাদের ফাঁদে পা দেবে না।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমার বাসা হাসপাতালে পরিনত হয়েছিলো। সেখান থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে তিনটি এ্যাম্বুলেন্স অনবরত কাজ করেছে। সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও স্বৈরাচার সরকারের হিংসাত্মক আচরণের শিকার হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের বিনিময়ে আমাদের রক্ষা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ওপর অবিচার হয়েছে, অত্যাচার হয়েছে, তবু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কথা বললেই সেটা বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়। অপপ্রচার চালাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করা হচ্ছে।
মির্জা আব্বাস আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। যারা আমার সম্পর্কে অপপ্রচার করছেন তারা অপরিপক্ক। তারা হয়ত আমার সম্পর্কে কিছু জানে না। বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ার ক্ষেত্রে ১১টি কার্ড নিয়ে নিয়ম মেনেই গিয়েছি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন শুধু আমার এলাকাতেই নির্বাচন হচ্ছে। এসব অপরিপক্করা যদি সংসদে আসে তাহলে সংসদের কী অবস্থা হবে আল্লাহ জানেন।’
তিনি নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু লাইক বা শেয়ার নয়, যুক্তিসংগতভাবে লিখে জবাব দিতে হবে।
দোয়া ও স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুদ্দিন, বারডেম হাসপাতালের পরিচালক হাসপাতাল ডা. মো. নাসির উদ্দিন, কর্মকর্তা কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম, ডা. মাহমুদ নবী সিদ্দিকী ডা. রেনে সুজান ক্লদ সরকার ডা. নাজমুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ দাউদ, ডা. তৈমুর, ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল প্রমুখ।