বাসস
  ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৬

খালেদা জিয়ার শাসনামলেই বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে : সেলিমা রহমান

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিয়েছেন। 

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর শাসনামলেই বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীন দলের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন সাহসী সংগ্রামী নেত্রীকে হারিয়েছে, যাঁর অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশের মানুষ আজও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।

তিনি  আরও বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’। তিনি আজ আমাদের চোখের আড়ালে থাকলেও তাঁর চিন্তা-চেতনা, আদর্শ ও সংগ্রামী প্রেরণা বাংলাদেশের মানুষের মনে আজও উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসার জন্য ব্যক্তিগত কোনো আকাঙ্ক্ষা রাখেননি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়োজনেই তিনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার নির্যাতন, নিপীড়ন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, কিন্তু কখনো মাথা নত করেননি।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দুই শিশুসন্তান নিয়ে বন্দিত্বের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় মনোবল ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর কারাগারে থেকেও তিনি আপসহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যান, যা আজও নারীদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ।

সেলিমা রহমান বলেন, সংস্কারের কথা আজ অনেকেই বলছেন, কিন্তু প্রকৃত সংস্কারের সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ২০৩০ ভিশন উপস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজ বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও ত্যাগ আমাদের শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই শক্তি দিয়েই  দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে শরিক হন।