শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্য’র সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিল শুনানিতে তা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। গত দুই দিনে কমিশন যা করেছে, তার মধ্যেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে। যারা মনে করছেন— প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে বিজয় অর্জন করবেন। তারা মূলত গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ষড়যন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, আজকের রায়ই তার প্রমাণ। এত বড় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, তা বাস্তবে রূপ দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
নিজের মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি বগুড়ায়, সেখান থেকে আমি আগেও নির্বাচন করেছি। এবার আমার বিরোধিতা করার জন্য যা করা হয়েছে, তা এককথায় মবোক্রেসি।’
ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘আমি ব্যবসার কারণে ব্যাংকের কাছে ঋণী থাকতেই পারি। কিন্তু আমাকে খেলাপি দেখাতে ব্যাংকের একজন ম্যানেজারকে দিয়ে মিথ্যা নোটিশ করানো হয়েছিল। যখন হেড অফিসে এটা (ঋণ) রিসিডিউল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, তখন ওই চিঠি ইস্যু করায় সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্তি) করা হয়েছে।’
এ সময় তিনি তার আইনজীবী প্যানেল ও দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। একইসাথে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা-১৮ আসনে তার মনোনয়নপত্র আগেই বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আজ আপিল শুনানিতে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তিনি এখন দু’টি আসনেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।