শিরোনাম

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি কতটি আসনে নির্বাচন করবে, তা আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে।’
১১ দলীয় এই জোটের সব শরিকের মধ্যে আসন বণ্টন এখনো চূড়ান্ত না হলেও অন্তত এনসিপি’র অংশটি নিয়ে শিগগিরই স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি কাল-পরশুর মধ্যেই এনসিপি এই জোটে কত আসনে নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ঘোষণা দিতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘আসন সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকলেও জোট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’
নাহিদের মতে, ‘এখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট পুরোপুরি প্রতিযোগিতামূলক প্রচারণায় নামতে পারেনি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপিও বিদ্রোহী প্রার্থী-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রমে নামতে পারেনি।’
নাহিদ বলেন, ‘জোট ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছে এবং পাড়া-মহল্লা, জনসমাগমস্থল ও মসজিদে মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমর্থন আদায়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন।’
জামায়াতে ইসলামীকে একটি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এনসিপি প্রার্থী ও আসন-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলেই বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না। কিছুটা দেরি হলেও এতে আমাদের সামগ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।’
তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশের মধ্যে একপেশে অবস্থানের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং এনসিপি’কে লক্ষ্য করে নেতিবাচক ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে নাহিদ বলেন, ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো প্রার্থী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কিছু নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডসহ কয়েকটি ঘটনায় বিচার ও গ্রেফতার না হওয়ায় মাঠে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও দল মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারির পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে এনসিপি আরো সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।