বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৪

খালেদা জিয়ার স্মরণে ডিএসই ও ডিবিএ’র উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএসইর মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারবৃন্দ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও পরিচালকবৃন্দ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ডিএসইর কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য ও অসামান্য। তাঁর শাসনামলেই বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতে যে ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়, তার সুফল আজ সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা। তাঁর সরকারের সময় ১৯৯৩ সালে বিএসইসি গঠনের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। ১৯৯৪ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি শিল্প ও কর্পোরেট খাতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পুঁজিবাজার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি এ খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন, যার ফলেই আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, তাঁর জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় বেগম খালেদা জিয়া সমাজ ও মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। তাঁর প্রতি মানুষের যে, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রমাণ করে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।