শিরোনাম

চট্টগ্রাম আদালত, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ১৯ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম আদালত। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার চাঞ্চল্যকর এরশাদুল হাবীব রুবেলকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের এই আদেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। মামলার ৮ আসামির মধ্যে বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জজ হেমায়েত উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার আবু তাহেরের ছেলে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ (২৭), গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন সোহেল (৩০) আবু তাহেরের ছেলে আবু এরশাদ জুয়েল (৩২) ও আবু ইউসুফের ছেলে রুস্তম আলী (২৭)।
খালাসপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন- তৌহিদুল ইসলাম আরফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ এবং আজহারুল ইসলাম ছোটন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক। তিনি বলেন, চারজনকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রায়ে আমরা আংশিক সন্তুষ্ট। পূর্ণ ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবো। রায় ঘোষণার সময় আদালতে জাহেদুল ইসলাম ফরহাদকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে তিনি জানান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এরশাদুল হাবীব রুবেলকে। ঘটনার দুই দিন পর ১৭ অক্টোবর রুবেলের মা মমতাজ সুফিয়া আক্তার শেফালী ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আদালত শুনানি শেষে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২০১০ সালে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।