শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস) : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি হাসপাতালে সেবায় অনিয়মের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় টিম জানতে পারে, উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এসময় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিদর্শন-পরবর্তী প্রতিবেদনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অন্যদিকে, পঞ্চগড় পৌরসভায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় সৌরবাতি স্থাপনে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও থেকে আরও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মোট ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৪ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৭৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন সংক্রান্ত নথিপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, প্রতিটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৫০ টাকা। এ সময় পৌরসভার চারটি ভিন্ন স্থানে স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইট, প্যানেল ও ব্যাটারির বাস্তব অবস্থা যাচাই করে কয়েকটি বাতি অকেজো অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযানে টেন্ডার ডকুমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। এসব নথি বিশ্লেষণ করে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ ছাড়াও রাঙ্গামাটি জেলার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাঙ্গামাটি থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরুতে ছদ্মবেশে দুদক টিম হাসপাতালে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সেবার মান, ওষুধ প্রাপ্তি এবং রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ, স্টোররুম, ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা ও রান্নাঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত সব ওষুধ তারা পাচ্ছেন না। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল এলাকায় বেশ কিছু দালাল চক্রের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। তারা রোগীদের পার্শ্ববর্তী বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসময় ওষুধের স্টক ও বিতরণ সংক্রান্ত রেজিস্টার এবং রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের লগবইও সংগ্রহ করা হয়।
এ ছাড়া দেখা যায়, রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে মাংসের পরিমাণ কম এবং দুপুর ও রাতের খাবার একসঙ্গে রান্না করা হয়, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যবহৃত বেডশিটও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
সংগৃহীত সব রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানানো হয়েছে।