শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষায় কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে মালদ্বীপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ এবং আব্দুল রহিম হাসান। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানায়, বর্তমানে দেশে ১১২টি মেডিকেল কলেজে ১১ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ শতাংশ আসন বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে, যা মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা খাতে পড়াশোনা শেষ করে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ইন্টার্নশিপ করতে কোনো বাড়তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় না।
বিষয়টিকে বাংলাদেশের শিক্ষার মানের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি এমবিবিএস ও ১টি ডেন্টালসহ মোট ৭টি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বৃত্তি দিচ্ছে।
ইন্টার্নশিপ সুবিধা প্রসঙ্গে বলা হয়, বর্তমানে মালদ্বীপের ৬৫ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ করছেন এবং চলতি বছরে ৮০টির বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে গ্রামীণ ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানায় বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ মালদ্বীপের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ চিকিৎসা শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। তারা দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।