বাসস
  ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১

গণপ্রতিরক্ষার শক্তিশালী স্তম্ভ ভিডিপি: সুবর্ণজয়ন্তীতে মহাপরিচালক

ভিডিপি’র ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত ‘ভিডিপি দিবস’ অনুষ্ঠান। ছবি : বাসস

গাজীপুর, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আজ বলেছেন, গ্রাম ও নগর পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গণ-প্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ।

ভিডিপি’র ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত ‘ভিডিপি দিবস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মহাপরিচালক তার বক্তব্যে ভিডিপি’র গৌরবময় ইতিহাস, বর্তমান অবদান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

এ সময় মহাপরিচালক বলেন, ‘গ্রাম ও নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারে। এই ঐতিহাসিক দিনে আমি ভিডিপি’র সকল সদস্য-সদস্যা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

ভিডিপি’কে গণ-প্রতিরক্ষার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে। আইন প্রয়োগে সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ এবং জরুরি মানবিক সহায়তাসহ নানাবিধ সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তারা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

ভিডিপি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদস্যদের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আরও বলেন, আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পাবে, আর এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

এ সময় মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন যে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। 

পরিকল্পিত ও টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে এই প্রকল্প দেশব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম করবে বলে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, সকল ভিডিপি সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ এভিএমআইএস-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করার পাশাপাশি যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউলের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ভিডিপি’র সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।

ভিডিপি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান বলেন, ‘অদম্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে, আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে করে ভিডিপিকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী একটি বাহিনীতে পরিণত করা যায়। তাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে উঠবে।’

শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো, কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। 

উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক, উপ-মহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপি’র এই গৌরবময় যাত্রা শুরু হয়।