
কুমিল্লা (দক্ষিণ), ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে এখন জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের প্রায় দেড় হাজার কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনার কাজ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত চলে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়ে। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, প্রবীণ, প্রথমবারের ভোটার এবং পাহাড়ি উপজাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো জেলায় বিরাজ করে এক আনন্দঘন পরিবেশ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটারদের আলাদা লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে কোথাও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে ভোটাররা ধৈর্য ধরে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। অনেকেই ভোটকেন্দ্রে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সদর দক্ষিণ উপজেলার হাজী আক্রাম উদ্দিন স্কুল কেন্দ্রে দুপুরের দিকে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। প্রবীণ ভোটারদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। কেন্দ্রের ভেতরে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা নিয়ম মেনে ব্যালট প্রদান ও সিল গ্রহণের কাজ সম্পন্ন করছেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকালে কেন্দ্রে শুরু হয় গণনার কাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের সামনে একে একে ব্যালট বাক্স খোলা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ হাজার ৩৩৪ জন সদস্য। মাঠে ছিলেন ৭৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া সেনাবাহিনীর ৫৫টি প্লাটুন, বিজিবির ৩৯টি প্লাটুন এবং র্যাবের ২৪টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি ছিল আগেই। ভোটের দিন সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, জেলার সবগুলো আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ফলাফল সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে অনেক কেন্দ্রেই প্রার্থীদের সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ফলাফল জানার আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে ছোট ছোট জটলা তৈরি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গণনা কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিকেলের পর জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোট গণনা। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারা গণনার কাজ করছেন। প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টরা উপস্থিত থেকে গণনা পর্যবেক্ষণ করছেন। গণনা শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে।