বাসস
  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৪

সিলেটে ভোটগ্রহণ শেষ, শুরু হয়েছে গণনা

ছবি : বাসস

সিলেট, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হতেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট গণনা শুরু হয়েছে।

কেন্দ্র ভেদে কোথাও ৬০ শতাংশ, কোথাও ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেল চারটায় সিলেট সদর উপজেলার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আহমদ আলী জানান, তার কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। তার ঠিক আগে খাদিম চা বাগান সংলগ্ন নির্মলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কাজী জাফর জানান, তার কেন্দ্রে আড়াইটা পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোট দিতে যেমন নতুন ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে তেমনি বৃদ্ধ বয়সি অনেক নারী-পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

একজন নারী ভোটার মালিহা খানম (৭৯) সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন ভোট দিতে। সিলেট নগরের ১ নম্বর সরকারি আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে দেখা হয় তার সঙ্গে। তিন প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি ছিল তার অংশগ্রহণে, সঙ্গে ছিলেন ছেলে, নাতি ও বৌ।

ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদের কোনো ভোটে তিনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি। এবারও ভোট দিতে এসেছেন দেশে। পরিবেশ ভালো, উত্তেজনা নেই। ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।

নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, দেশের অগ্রগতি ও জনগণের জন্য যেন তারা কাজ করে সেই প্রত্যাশা মালিহা খাতুনের।

বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নারী ভোটারদের লম্বা লাইন। এর মধ্যে পাঠানটুলা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, কিনব্রিজ সংলগ্ন সারদা স্মৃতি ভবন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সারদা হলে ভোট দিয়েছেন ৭৩ বছরের নারী সাহেদা বানু। ছেলেকে নিয়ে এসে ভোট দিয়েছেন তিনি। এবারের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সকালে ভোট দিলে শান্তিতে দেওয়া যায়। কোনো ঝামেলা থাকে না। সারাদিনের রোদ-ভিড়ের মধ্যে আমাদের জন্য ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। শান্তিতে ভোট দিতে পেরে আনন্দ লাগছে।

প্রথমবার ভোট দেওয়া শিক্ষার্থী দেবাশীষ জানান, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এবার প্রথম ভোট হলো, সেখানে আমি নিজেও ভোটার হিসেবে প্রথমবার ভোট দিলাম। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সাক্ষী হয়ে গেলাম একসঙ্গে। বিষয়টি আনন্দের।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের নিরাপত্তা ছিল জোরদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

সিলেটের সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন বলেন, সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ শেষে ফল গণনা শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসা শুরু হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সিলেট জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচিত হবেন ছয়জন। সবার সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে এবং ফলাফল যা হবে তা সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।