বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১০

বিএনপি মহাসচিবের আসন ঠাকুরগাঁও-১ এর তিন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন প্রার্থী বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর খাদেমুল ইসলাম। ছবি: কোলাজ বাসস

ঠাকুরগাঁও, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন-ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভাসহ এই আসনের মোট ভোটার ৫ লক্ষ ১১ হাজার ৬শ’ ২৯ জন।

এই আসনে মোট প্রার্থী ৩ জন
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি, মার্কা-ধানের শীষ।
২. মো. দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, মার্কা-দাঁড়িপাল্লা।
৩. মো. খাদেমুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মার্কা-হাতপাখা
মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. খাদেমুল ইসলাম স্ব স্ব দলের পক্ষে সাক্ষাৎকার দিলেও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিবের পক্ষে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

সাক্ষাৎকার-১
প্রার্থীর নাম-মো. দেলোয়ার হোসেন
দল-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-মার্কা-দাঁড়িপাল্লা

প্রশ্ন ও উত্তর:

প্রশ্ন-১. আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
মো. দেলোয়ার হোসেন ঃ
আপনারা জানেন, ঠাকুরগাঁও দীর্ঘদিন ধরে একটা অবহেলিত জেলায় পরিণত হয়েছে। এখান থেকে অনেকে এমপি অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তাঁরা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে উন্নয়ন বলতে যা বোঝায় সে ধরনের কিছুই এখানে নাই। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন ইনশাআল্লাহ আমি সর্বপ্রথম দেশের মানচিত্রে ঠাকুরগাঁওকে মাথা উঁচু করে ধরবো। আমি এই জেলাকে শিক্ষাশহরে পরিণত করতে চাই। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি কলেজ নিয়ে আসবো।

ঠাকুরগাঁওয়ের সকল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আমরা প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ। ৬০ বছর ঊর্ধ্ব এবং ৫ বছরের নিচের সকল নাগরিকের চিকিৎসা ব্যয় আমরা ফ্রি করে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
এ জেলায় বেকারত্ব একটা বিরাট সমস্যা হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা এখানে বেকার, আমরা ঠাকুরগাঁওকে একটা বেকারত্বমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করবো এবং সকল যুবক যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ঠাকুরগাঁওকে একটা রপ্তানিমুখী অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এখানকার অর্থনীতিকে সচল এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরকে আমরা চালু করার ব্যবস্থা করবো। একটা সুগার মিল ছাড়া এ জেলায় বড় কোনো শিল্প কারখানা নেই। তাই আমার পরিকল্পনা এ জেলায় বড় বড় শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া যাতে করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মাদক, চাঁদাবাজি এ জেলায় একটা বড় সমস্যা। আমরা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করতে বদ্ধপরিকর।

এ জেলায় মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান নানা জাতির বসবাস, সবাইকে নিয়ে আমরা একটা 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন-২. নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. দেলোয়ার হোসেন ঃ 
আমরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী আচরণবিধি টু দ্য পয়েন্টে ফলো করতে আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া আছে। আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যে আইন তা পালন না করে নিজেদের আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে দেখতে চাই না।

প্রশ্ন-৩. জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. দেলোয়ার হোসেন ঃ
 জুলাই সনদ আমাদের আবেগের জায়গা। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে গণভোট সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। কারণ, ১৪শ’ মানুষের জীবন গিয়েছে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের জন্য। আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা পরিবর্তন চাই সেই ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি, নষ্ট রাজনীতির যে রাজনীতির মধ্যে শুধু হানাহানি মারামারি কাটাকাটি প্রতিহিংসা দুর্নীতি লাশ আর লাশ। আমরা এই ধরনের রাজনীতি আর এই সমাজ আর রাষ্ট্রের মধ্যে দেখতে চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন যদি আনতে হয় তবে দেশের সংষ্কার প্রয়োজন। এই সংস্কারের জন্যই গণভোট, আমরা গণভোটের (হ্যাঁ) পক্ষে, জনসাধারণও গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন-৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. দেলোয়ার হোসেন ঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমার প্রত্যাশা হলো, এখন পর্যন্ত জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা আমাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, নির্বাচনটা সুন্দর,অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। আমরা তাদের এই আশ্বাসকে পজিটিভলি নিচ্ছি। সত্যিই তারা যদি এটা বজায় রাখতে পারেন তাহলে তো একটা উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে তো নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে।

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগে যে ছোটো ছোটো উঠান বৈঠক, সীমিত প্রচারণা চলেছে সেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। এগুলোতে আমার পক্ষে যারা কথা বলেছে, সমর্থন করেছে, একটা বড় দলের পক্ষ থেকে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে। যদি তোমরা ধানের শীষের বাইরে কাউকে ভোট দাও তাহলে ১২ তারিখের পর তোমাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মন্দির থাকবে না পূজা থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা প্রশাসনকে টাইম টু টাইম এগুলো অবহিত করেছি। আমাদের প্রচার প্রচারণায় প্রচুর বাঁধা দেয়া হচ্ছে। গত ৩ দিন আগে আমি এক আত্মীয়ের বাসায় গেলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থীর আসার কথা শুনে একটু ভীড় জমেছে। আমি সেখান থেকে উপস্থিত জনতার সাথে কথা বলে যখন বের হয়ে এসেছি তখন সেখানে দেশী অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে জানালেও প্রশাসন যেতে অনেক দেরি করেছে। আমাদের দাবি, প্রশাসন যেন এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনতে বিলম্ব না করে এবং কেউ যেন নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হন।

সাক্ষাৎকার-২
প্রার্থীর নাম -মো. খাদেমুল ইসলাম
দল-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মার্কা-হাতপাখা

প্রশ্ন-১. আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মো. খাদেমুল ইসলাম ঃ
কৃষকদের জন্য ভুর্তুকির মাধ্যমে আধুনিক কৃষি উপকরণ প্রদান, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবো। এতে করে আমাদের জেলা কৃষিবান্ধব হয়ে উঠবে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমার প্রতিশ্রুতি, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা।

এখানকার যুবকরা বেকার হয়ে হতাশায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে সেজন্য আমি ইপিজেড নির্মাণ করতে চাই। তাতে করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে এবং মাদকের ভয়াবহ কবল থেকে তারা মুক্তি পাবে। এছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটা কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা আমার প্রতিশ্রুতি। এছাড়া শিল্পপতিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটিকে চালু করে নিয়মিত এখানে বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা আমার লক্ষ্য।

প্রশ্ন-২. নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. খাদেমুল ইসলাম  ঃ
 নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমন কিছু আমরা করব না, নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া আচরণবিধি আমরা মেনে চলবো এবং প্রতিপক্ষের জন্য সম্মান হানিকর কিছু আমরা করব না যা অনেকেই করে থাকেন।

প্রশ্ন-৩. জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. খাদেমুল ইসলাম ঃ
 এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। আমরা দেখেছি ৭১ সাল থেকে এই গত ২৪ পর্যন্ত এদেশে যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে তারা সবসময় বিরোধী দলকে দমন পীড়ন জুলুমের জন্য সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছে। এই ফ্যাসিবাদ যেন পুণরায় দেশে আর কোনো দিন আসতে পারে সেজন্য সংষ্কার প্রয়োজন আর সেজন্য আমরা স্পষ্টত গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে এবং জন সাধারণকেও আহবান জানাবো 'হ্যাঁ' ভোট দিতে।

প্রশ্ন-৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. খাদেমুল ইসলাম ঃ
আমার প্রত্যাশা এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে এবং আমরা যদি জন সাধারণকে বুঝাতে পারি এবং তারা যদি বুঝতে পারেন তাহলে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয় তারা নিশ্চিত করবেন।

সাক্ষাৎকার-৩
প্রার্থীর নাম-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দল-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), মার্কা-ধানের শীষ

প্রার্থীর পক্ষে সাক্ষাৎকার দেন : মো. পয়গাম আলী, সাধারণ সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি।

প্রশ্ন-১. আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মো. পয়গাম আলী ঃ ​​​​​​​
আপনারা জানেন, বিএনপির জাতীয়ভাবে ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জরুরি নির্বাচনি ইশতেহারে ৮ দফা আছে যা জাতীয় পর্যায়ে জনসাধারণকে দেয়া বিএনপি’র প্রতিশ্রুতিকে নির্দেশ করে। এই ৮ দফার মধ্যে আছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ। এনজিও’র কাছে নেয়া মা-বোনসহ কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণও সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। স্থানীয়ভাবে এলাকার ভোটারদের জন্য মহাসচিবের কিছু প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এরমধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের জন্য বড় বড় শিল্প কলকারখানাসহ কৃষিভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণ। এ কাজটির প্রাথমিক উদ্যোগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বেপজা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি পরীক্ষা করতে ঠাকুরগাঁও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়ে গেলে এটা যথাসম্ভব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে আর এটার ধারাবাহিকতায় জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বিমানবন্দরটি চালু করা হবে। সেই সাথে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে বিনা জমি অধিগ্রহণেই মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। কৃষি কার্ড এরআগেও ছিল কিন্তু এবার বিএনপি নির্বাচিত হলে যে কৃষি কার্ড দেবে তা ডিজিটাল কৃষি কার্ড যা দিয়ে কৃষক ভুর্তুকির মাধ্যমে আধুনিক কৃষি উপকরণ প্রদান, সেচসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপাদান ন্যায্যমূল্যে পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড দিয়েও প্রান্তিক মানুষদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এতে করে আমাদের জেলা কৃষিবান্ধব হয়ে উঠবে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমার প্রতিশ্রুতি, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা। উনি সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ভুল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক দু’টি প্রশাসনিক উপজেলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যা বিগত সরকারের আমলে শুধু অনুমোদন হয়ে কখনই আলোর মুখ দেখেনি। বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেটি সম্পূর্ণ করা হবে। এ জেলা নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের একটা পরিপূর্ণ ভিশন ও মিশন রয়েছে, যা আধুনিক ঠাকুরগাঁও বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপি সেই দল যারা প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। আমাদের প্রয়াত নেত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কৃষকদের ২৫ বিঘা জমি পর্যন্ত খাজনা মওকুফ করেছিলেন। একই সাথে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।

প্রশ্ন-২. নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মো. পয়গাম আলী ঃ
আমাদের প্রতি এলাকায় প্রত্যেক নির্বাচনি সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনকারীদের কাছে আচরণবিধি সরবরাহ করা হয়েছে। দলের নির্দেশ তারা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। ইতোমধ্যেই ধানের শীষের কিছু কাপড়ের ব্যানার পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। দাঁড়িপাল্লার একটা বিলবোর্ড ছেঁড়ার ঘটনায় সরাসরি বিএনপি’কে দোষারোপ করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএনপি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গত ১৫ বছর লাগাতার সংগ্রাম করে গেছে। সেটা বাস্তবায়নের যে সুযোগ এসেছে তা ধূলিস্যাৎ করার কোনো কার্যক্রমই বিএনপি হতে দেবে না।

প্রশ্ন-৩. জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মো. পয়গাম আলী ঃ 
আমাদের চেয়ারম্যান রংপুরের জনসভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা দল, বিএনপি সংষ্কারের দল। এটাতে আর কোনো সন্দেহ নেই। এদেশে যেন কখনই আর স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রশ্ন-৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. পয়গাম আলী ঃ ​​​​​​​
আমার প্রত্যাশা এ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে এবং আমরা যদি জন সাধারণকে বুঝাতে পারি এবং তারা যদি বুঝতে পারেন তাহলে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয় তারা নিশ্চিত করবেন।