বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৮
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:১৩

শরীয়তপুরকে আধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে : মিয়া নুরুদ্দিন অপু

মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু । ছবি : বাসস

\\ মহসিন বেপারী \\

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শরীয়তপুর-৩ আসন (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ আংশিক) থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে নতুন করে শরীয়তপুর গড়ে তুলতে চান তিনি। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে শরীয়তপুরকে আধুনিক, মডেল ও গর্বিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাসস : এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : প্রতিশ্রুতি একটি সাধারণ বিষয়। নির্বাচন এলেই সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু শরীয়তপুর আমার পরিবার। পরিবারের সব সমস্যার সমাধানই আমার প্রতিশ্রুতি। আমরা একটি মানবিক শরীয়তপুর গড়ে তুলবো, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সুন্দরভাবে, সহমর্মিতার সাথে এবং বৈষম্যহীনভাবে বসবাস করতে পারবে। সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করবো। অবহেলিত শরীয়তপুরের সার্বিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : নির্বাচনী প্রচারণা প্রায় শেষের পথে। শুরু থেকেই আমার নেতাকর্মীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছি।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : গণভোট মানে জনগণের ভোট। যার যার মতো ভোট দেবে।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : আমার প্রত্যাশা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানকে ভালোবেসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। 

বাসস : শরীয়তপুর একটি অবহেলিত জেলা, এ জেলার উন্নয়নে আপনার প্রথম অগ্রাধিকার কী থাকবে?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : শরীয়তপুর একটি অবহেলিত জেলা। এই ‘অবহেলিত’ শব্দটাই মুছে দিতে তারেক রহমান সাহেব আমাকে এখানে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন শরীয়তপুরকে একটি মডেল ও গর্বিত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে।

তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর একটি সম্ভাবনাময় জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শরীয়তপুর এখনো পিছিয়ে। তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যেই এই জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সুপরিকল্পিত রূপরেখা রয়েছে।

নুরুদ্দিন অপু বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শরীয়তপুরের দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটানো হবে। শরীয়তপুরকে আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি কাজ করবে।

বাসস : আপনি বিগত সময়ে দীর্ঘ ৮ বছর জেল-জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু : আমার ওপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। আমাকে দীর্ঘ ৮ বছর কারাবন্দি রাখা হয়েছে। আমি সবকিছু মহান আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-৩ আসনে (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ আংশিক) যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ধানের শীষ প্রতীক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক, জাতীয় পার্টি থেকে মো. আব্দুল হান্নান লাঙ্গল প্রতীক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হানিফ মিয়া হাতপাখা প্রতীক।