বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০৯

বৈষম্য ঘোচানো ও সমান নাগরিক সেবার অঙ্গীকার ঢাকা-১৮ প্রার্থী আদীবের

ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন, বৈষম্য দূর করা এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদীব বলেন, ঢাকা-১৮ বলতে সাধারণত উত্তরা মডেল টাউনের পরিকল্পিত ও আধুনিক একটি চেহারাই মানুষের চোখে ভাসে। কিন্তু বাস্তবে বৃহত্তর উত্তরার মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত। উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত ও তুরাগের বড় অংশ এখনো অবহেলিত, যেখানে মৌলিক নাগরিক সেবার ঘাটতি প্রকট।

আদীব বলেন, এই এলাকাগুলোর বাসিন্দারা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েও প্রাপ্য সেবা পান না। অথচ তারা অন্য এলাকার মতোই কর পরিশোধ করেন। এই বৈষম্যই আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

তিনি জানান, নির্বাচিত হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করা। আমি এমন একটি নগরী গড়তে চাই, যা হবে নিরাপদ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক। যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তার নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ, অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নদী ও খালগুলোর ভয়াবহ দূষণ এবং দখল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তুরাগ নদী ও টঙ্গি খালসহ আশপাশের জলাশয়গুলো প্রভাবশালীদের দখল ও দূষণের কারণে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন আদীব।

তিনি বলেন, নদী ও খালগুলো পরিষ্কার করতে হবে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। দুই পাড় উন্নয়ন করে ওয়াকওয়ে ও উন্মুক্ত জনপরিসর গড়ে তুললে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে।

উত্তরখান, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকার সেবা বঞ্চনার বিষয়টিও তুলে ধরেন আদীব। এসব এলাকা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও নাগরিক সুবিধা সেখানে অত্যন্ত সীমিত।

তিনি বলেন, এই এলাকাগুলোতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হয়, কিন্তু সেবার মান গ্রামাঞ্চলের মতোই। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে করের ভারসাম্য ও ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন আদীব। চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। ব্যবসা করতে গিয়ে যেন কাউকে ভয় বা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

নারী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আদীব বলেন, ঘরে ও বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু এবং গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান।

ঢাকা-১৮ এর অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। বিশেষ করে আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটি প্রতিদিনই যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আদীব বলেন, রাস্তা সংস্কার, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, দূরপাল্লার বাস নিয়ন্ত্রণ এবং সময় ও স্থানভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানজট নিরসনে কাজ করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বড় পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। উত্তরখান, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করেন আদীব। তার ভাষায়, এই এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হলে মানুষের চিকিৎসাসেবা অনেক সহজ হবে।

শিক্ষা খাতেও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করে আদীব বলেন, আমাদের ঐক্য দুর্নীতি, দূষণ, চাঁদাবাজি ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চায়। যদি ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়, তাহলে ঢাকা-১৮ আসন উন্নয়ন, সাম্য ও ন্যায়ের একটি মডেল আসনে রূপান্তর করা সম্ভব।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬১ লাখ ৩৮ হাজার ৪১ জন।

এই আসনে আরিফুল ইসলামের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন ‘ধানের শীষ’, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ ‘আম’ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আনোয়ার হোসেন ‘হাতপাখা’, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন ‘হরিণ’, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আনোয়ার হোসেন ‘মোমবাতি’, জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন ‘লাঙ্গল’, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার ‘রেল ইঞ্জিন’ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ ‘মই’ মার্কা নিয়ে এবার নির্বাচন করবেন।