শিরোনাম

বগুড়া, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গত ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে এই জনপদ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এই বঞ্চনা দূর করে পর্যটন ও শিল্পায়নের মাধ্যমে শিবগঞ্জকে নতুন করে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বগুড়া জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদ।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মীর শাহে আলম : বগুড়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাড়ি হওয়ায়, বিগত ১৭ বছর সার্বিক উন্নয়ন থেকে জেলাটি বঞ্চিত। সেইসঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলাও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে, এলাকায় ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবো।
যেমন—রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং পুণ্ড্রনগরী খ্যাত মহাস্থানগড় এই উপজেলায় অবস্থিত। পর্যটন কেন্দ্র ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। উত্তর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সাধক হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ:) এর মাজার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। মাজারকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ প্রত্যেক দিন এই উপজেলার মহাস্থানে যাওয়া-আসা করে। তারা যাতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ভালোভাবে করতে পারে এ জন্য মাজার কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ, শহীদ প্রফুল্ল চাকীর বাড়িও আমাদের এই শিবগঞ্জের বিহারে। তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এখানে তার স্মৃতিস্তম্ভ বা তাকে নিয়ে কিছু কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রংপুর-দিনাজপুর হাইওয়ে আমাদের উপজেলার ওপর দিয়ে চলে গেছে। এই হাইওয়ের আশপাশে বড় ছোট শিল্প কলকারখানা তৈরি করে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্ট করবো। এছাড়া বিএনপির দেশ গড়ার যে পরিকল্পনা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পরিবেশের বিষয়ে নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, খেলাধুলা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে সরকারে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখব ইনশাল্লাহ।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মীর শাহে আলম : নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ইতোপূর্বে যে সমস্ত কালার ফেস্টুন, পোস্টার লাগিয়েছিলাম, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেগুলো খুলে ফেলেছি।
এরপরও সর্বোচ্চ আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবো। প্রশাসনকে সহযোগিতা করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন করবো। মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবো, ক্যাম্পেইন করবো এবং ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মীর শাহে আলম : মূলত জাতীয় নির্বাচনে এখন সাধারণ মানুষ গণভোট ব্যাপারে এতটা সচেতন না। জাতীয় নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ এবং এই নির্বাচনটা নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা খেয়াল করছি। গণভোটের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রশাসন ক্যাম্পেইন করছে। আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা যেটি রয়েছে দলের পক্ষে, ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে, এটি নিয়েই আমরা কাজ করবো।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মীর শাহে আলম : দীর্ঘদিন পর মানুষ এবার সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি। তাই একজন প্রার্থী হিসেবে আশা করবো, প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে যেন ভোট প্রয়োগ করতে পারে, সে ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন।
আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দীন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি) ও রেজাউল করিম তালু (সিঁড়ি)।