শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস): যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইরানের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দৃশ্যমান ছাড় দেয়নি বলে রোববার জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ওয়াশিংটন পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ইরানকে কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখার দাবি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের শর্ত।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদের ‘এমনকি ২৫ শতাংশও’ মুক্ত করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার সূচনার সঙ্গে শর্তযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, ‘কোনো দৃশ্যমান ছাড় না দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু আদায় করতে চাইছে, যা তারা যুদ্ধে অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আলোচনা অচলাবস্থার দিকে যাবে।’
নিজেদের প্রস্তাবে ইরান সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরাইলের অভিযান বন্ধের দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরান সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে।
ফার্স আরও জানায়, ইরানের প্রস্তাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণলীর ব্যবস্থাপনা তেহরান অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ সময় কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান।
রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেখারচি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন করে হামলা চালানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে তিনি বলেন, ‘হতাশাগ্রস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানা উচিত, যদি তার হুমকি বাস্তবায়িত হয় এবং ইসলামি ইরানের ওপর আবার হামলা চালানো হয়, তাহলে তার দেশের সম্পদ ও সামরিক বাহিনী নজিরবিহীন, আক্রমণাত্মক, বিস্ময়কর ও তীব্র পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।’
একইভাবে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই ইরানের তেল অবকাঠামোয় হামলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন।
আইএসএনএ বার্তা সংস্থার বরাতে তিনি বলেন, ‘ইরানের তেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে, ইরান এমন পদক্ষেপ নেবে, যার ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব এ অঞ্চল থেকে তেল পেতে পারবে না।’