বাসস
  ১২ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৩

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্ব হত্যাকাণ্ডে ২৮ বছর বয়সী সন্দেহভাজন গ্রেফতার

ঢাকা, ১২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, প্রবীণ ডানপন্থি রাজনীতিক অ্যান উইডিকম্বকে হত্যার অভিযোগে শনিবার রাতে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘটনায় আটক করা এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ৭৮ বছর বয়সী সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী উইডিকম্বকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডেভনে তার নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের একটি স্থান থেকে ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিক। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের বিষয়টি উইডিকম্বের পরিবারকে জানানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার পুলিশ জানিয়েছিল, শুক্রবার গ্রেফতার করা ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি আর তদন্তের অংশ নন।

পুলিশ বলেছে, ‘এই মুহূর্তে এটি সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট ঘটনা—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের নেতৃত্ব আমাদের হাতেই রয়েছে।’

ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান এর আগে জানান, কর্মকর্তারা মনে করছেন উইডিকম্বের ওপর হামলাটি তার মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ৮ জুলাই বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই হামলাটি হয়েছিল।’ 

তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ সন্দেহভাজনের সন্ধান করছিল।

লংম্যান শুক্রবার বলেছিলেন, এ ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তিনি জানান, অ্যান উইডিকম্বের মৃত্যুর ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবেও দেখা হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ‘চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দারা বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

উইডিকম্ব ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি তার খ্রিস্টীয় বিশ্বাস এবং স্পষ্টভাষী মতামতের জন্য পরিচিত ছিলেন।

১৯৯৫ সালে কারামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গর্ভবতী বন্দিদের পালানো ঠেকাতে তাদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার নীতিকে সমর্থন করায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।