শিরোনাম

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পরাজিত হয়ে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ড জয়ের সুযোগ আরও একবার নষ্ট করেছেন সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ। এককভাবে রেকর্ড ২৫তম শিরোপা জয়ের সুযোগ তিনি আর কতবার পাবেন, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
৩৮ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান তারকা সম্প্রতি অবসরের আলোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে নিজের অলিম্পিক স্বর্ণপদক ধরে রাখার লক্ষ্য তার রয়েছে।
কিন্তু রোববার ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের কাছে চার সেটে হারের পর জকোভিচ ইঙ্গিত দেন, হয়তো আর মেলবোর্নে ফেরা হবে না।
রড লেভার অ্যারেনায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আগামীকাল কী হবে তাই জানি না, ছয় মাস বা ১২ মাস পরের কথা তো দূরের। তাই এটি ছিল এক দারুণ যাত্রা। আমি তোমাদের ভালোবাসি।”
জকোভিচ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন রেকর্ড ১০ বার। রোববারের আগে কখনো ফাইনাল হারেননি।
তবে এত সাফল্যের পরও মেলবোর্নের দর্শকদের সঙ্গে জকোভিচের সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, “শেষে শুধু এটুকু বলতে চাই, বিশেষ করে শেষ কয়েকটি ম্যাচে তোমরা আমাকে এমন কিছু দিয়েছ, যা আমি অস্ট্রেলিয়ায় আগে কখনো পাইনি। এত ভালোবাসা, সমর্থন, ইতিবাচকতা। বছরের পর বছর ভালো টেনিস খেলে আমি তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
তার বক্তব্যে বিদায়ী ভাষণের সুর ছিল এবং সেটিকে কেবল হারের আবেগী প্রতিক্রিয়া বলে মনে হয়নি।
জকোভিচ জানান, তিনি দুটি বক্তৃতা প্রস্তুত করেছিলেন- একটি জয়ের জন্য, অন্যটি হারের জন্য।
২০২৩ ইউএস ওপেনে ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্ল্যাম প্রাপ্তির তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ওঠেন জকোভিচ।
কিন্তু বয়স, চোট এবং বিশ্বের এক নম্বর আলকারাজ ও দুই নম্বর ইয়ানিক সিনারের উত্থানের কারণে এরপর আর নতুন কোনো শিরোপা জিততে পারেননি।
রোববারের আগে তার শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল ছিল ২০২৪ সালে উইম্বলডনের ফাইনালে। সেখানেও এই আলকারাজের কাছেই হেরেছিলেন।
গত বছর চারটি মেজরেই তিনি সেমিফাইনালে উঠলেও তার বেশি এগোতে পারেননি, আলকারাজ ও সিনারই শিরোপা ভাগ করে নেন।
মেলবোর্নে সেমিফাইনালে ১৪ বছর ছোট সিনারকে পাঁচ সেটের ম্যারাথন গেমে হারিয়ে সময়কে যেন পেছনে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন জকোভিচ।
কিন্তু ফাইনালে প্রথম সেট জয়ের পর ২২ বছর বয়সী আলকারাজ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ সেটে জয় নিশ্চিত করেন।
চতুর্থ বাছাই হিসেবে সেমিফাইনালে উঠতে তিনি দু’টি বড় সৌভাগ্যেও দেখা পেয়েছিলেন জকোভিচ। চতুর্থ রাউন্ডে জাকুব মেনশিক চোটে নাম প্রত্যাহার করায় সহজেই এগিয়ে যান। এরপর লোরেঞ্জো মুসেত্তির বিপক্ষে দুই সেটে পিছিয়ে পড়লেও ইতালিয়ান এই পঞ্চম বাছাই চোটে অবসর নিলে ম্যাচ জিতে শেষ চাওে জায়গা করে নেন।
সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও পাঁচ সেটের ম্যাচের পর এত দ্রুত আবার একই সাফল্য পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
জকোভিচ বলেন, “সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ টুর্নামেন্ট ছিল। আমি জানতাম, শিরোপা জিততে হলে সম্ভবত দু’জনকেই (আলকারাজ ও সিনার) হারাতে হবে।
আমি একজনকে হারিয়েছি। গত বছরের তুলনায় গ্র্যান্ড স্ল্যামে এক ধাপ এগিয়েছি।
মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জকোভিচ বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে পারব। না হলে আমি প্রতিযোগিতাই করতাম না।”