শিরোনাম

খুলনা, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করা হবে। ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুরে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি একটি দলের নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে- নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.)ও ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।’
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার, লাখো নেতাকর্মী; বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, তারা ভোটাধিকার ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য মতামত প্রকাশ করতে পারেননি। মতামত প্রকাশ করলে গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে। এখন সময় এসেছে ভোটাধিকার প্রয়োগের।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তর সালে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিলেন। আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন।
খুলনা অঞ্চলের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো চালু করা হবে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও কর্মসংস্থান এবং আইটি সেক্টরের মাধ্যমে যুবকদেরও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা হবে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। এজন্য তিনি সকলকে পরিশ্রমী হওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারীরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাবলম্বী হবে। একই সঙ্গে কৃষকদেরও কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে করে তারা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ এবং সার ও বীজ পেতে পারেন। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফেরও ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান স্লোগান দেন ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞ দল হিসেবে বিএনপির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি’র দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং আগামী দিনেও বিএনপিই পারবে দেশ পরিচালনা করতে। এজন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট দিয়ে ধানের শীষকে বিজয় করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা জেলায় দলের মনোনীত ১৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে হাত ধরে পরিচয় করিয়ে দেন।
নগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমির এজাজ খান, খুলনা- ২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা- ৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারি হেলাল, খুলনা- ৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবি, খুলনা- ৬ আসনের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা- ৩ আসনের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী প্রদীপ কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট -৩ আসনের প্রার্থী লায়ন ফরিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আর্লি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু।
জনসভায় সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিকুল আলম তুহিন। এতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।