শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপে মাঠের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে শীর্ষ আটে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচটি ইংলিশ দল।
আর্সেনাল, লিভারপুল, টটেনহ্যাম, ম্যানচেস্টার সিটি, নিউক্যাসল ও চেলসি, এই ছয় দলই চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আট ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগের তুলনায় বেশি জয়ের হার পেয়েছে।
বর্তমান ফরম্যাটে মিকেল আর্তেতার আর্সেনালই প্রথম দল যারা লিগ-পর্বে টানা আট ম্যাচ জিতে নিখুঁত রেকর্ড গড়েছে। টটেনহ্যাম, লিভারপুল, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটিও সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠেছে। নিউক্যাসলকে খেলতে হবে প্লে-অফ, তবে গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাদের খুব একটা ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
টটেনহ্যাম কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক বলেন, “আমরা কয়েক বছর ধরেই বলে আসছি প্রিমিয়ার লিগই বিশ্বের সেরা লিগ, আর এটাও তার আরেকটা প্রমাণ।”
অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বড় টেলিভিশন স্বত্ব চুক্তির কারণে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের বেশিরভাগ প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ডেলয়টের বার্ষিক ‘ফুটবল মানি লিগ’-এ দেখা গেছে, গত মৌসুমে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা শীর্ষ ২০ ক্লাবের মধ্যে নয়টিই ছিল ইংল্যান্ডের। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আলো ছড়ানো ছয় ইংলিশ ক্লাবের পাঁচটিই শীর্ষ ১০’এ ছিল।
গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর ব্যয় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। যার পরিমান ছিল তিন বিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ডলার) বেশি, যা বুন্দেসলিগা, লা লিগা, লিগ ওয়ান ও সিরি আ- এই চার লিগের মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি।
এই বিপুল বিনিয়োগ ইংলিশ ক্লাবগুলোকে গভীর ও শক্তিশালী স্কোয়াড গড়তে সাহায্য করেছে, যা ব্যস্ত ফুটবল সূচিতে তাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে।
লা লিগায় চতুর্থ স্থানে থাকা ভিয়ারিয়াল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ পর্বে তলানির দিকেই শেষ করেছে। আট ম্যাচের মধ্যে কোনও ম্যাচই তারা জিততে পারেনি। এর মধ্যে টটেনহ্যাম ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হারও রয়েছে।
ইংলিশ ক্লাবগুলো শুধু আর্থিক শক্তিতেই নয়, মাঠেও নিজেদের আধিপত্য দেখাচ্ছে। শারীরিকভাবে তারা অনেক সময়ই ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
গত সপ্তাহে আর্সেনাল প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েও গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলানকে তাদের মাঠে ৩-১ গোলে হারায়।
ইউরোপে প্রিমিয়ার লিগের এই সাফল্য এসেছে এমন এক মৌসুমে, যেখানে ঘরোয়া লিগে কয়েকটি দল হতাশাজনক পারফরম্যান্স করছে।
প্রিমিয়ার লিগে ১৪ নম্বরে থাকা টটেনহ্যাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টেবিলে চতুর্থ হয়েছে। লিভারপুল আবার ইংল্যান্ডে বাজে মৌসুম কাটালেও ইউরোপে রিয়াল মাদ্রিদ, এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও ইন্টারকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে।
দুই প্রতিযোগিতার পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিউক্যাসল উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন বলেন, “প্রিমিয়ার লিগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শারীরিক বিষয় সামনে এসেছে।”
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের এই খেলোয়াড় চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছয় গোল করলেও প্রিমিয়ার লিগে এক বছরের বেশি সময় ধরে ওপেন প্লে থেকে গোল পাননি।
“ এতটাই নিরবচ্ছিন্ন শারীরিক চাপ এখানে থাকে যে মাঝে মাঝে এটা বাস্কেটবল ম্যাচের মতো লাগে।,” বলেন তিনি। “খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটা দৌড়ঝাঁপের খেলা, অনেক সময় দ্বৈরথের লড়াই—কে দ্বৈরথ জিতবে, সেই ম্যাচ জিতবে।”
তবে এই একই শারীরিক চাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ দিকের রাউন্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যখন আট মাসের টানা খেলার ধকল খেলোয়াড়রা ক্লান্তবোধ করবে।
ঐ সময়ই তারা মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের, যাদেরও প্রিমিয়ার লিগের সেরাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সামর্থ্য রয়েছে।
এই কারণেই গত ১৩ মৌসুমে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ট্রফিটি মাত্র তিনবার ইংল্যান্ডে গেছে, যা সম্পূর্ণ আধিপত্যের আশঙ্কায় ভোগা মানুষদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।