বাসস
  ২২ মে ২০২৬, ২১:০০

ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে কমছে উৎপাদন খরচ, বাড়ছে লাভ

ছবি: বাসস

আবু নাঈম

পঞ্চগড়, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ধনমন্ডল এলাকার তরুণ চাষি সমিজ উদ্দিন। বাণিজ্যিকভাবে শাক সবজি চাষ করেন। জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে তেমন ভালো ফলাফল পাচ্ছিলেন না। পরে কৃষি অফিস থেকে দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী ফার্ম করেন। তাতেই সফলতার দেখা পান।

নিজেই ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করায় এখন শাক-সবজি চাষে খরচ কমেছে। নিয়মিত ভালো ফলন হচ্ছে।  তার সাফল্য দেখে টেকসই কৃষির দিকে ঝুঁকছেন এলাকার চাষিরা।

বাসসের সাথে আলাপকালে সমিজ উদ্দিন জানান, ৪ টি রিং দ্বারা প্রথমে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ১২ টি রিং ও ১ টি হাউজের মাধ্যমে মাসে অন্তত ৮০০ কেজি সার উৎপাদন করছেন। নিজের জমিতে ব্যবহারের পর বাড়তি সার ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি  করেন। 
তিনি বলেন, আমি এই মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে চিচিঙ্গা ও ১ বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করেছি। রাসায়নিক সার কমিয়ে দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করায় আমার খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেই সাথে গাছের স্থায়িত্ব ও ফলন বেড়েছে। দুই বিঘা জমি থেকে এখন পর্যন্ত আমি ১ লাখ টাকা লাভ করেছি। আরও অন্তত এক মাস আমি চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স বিক্রি করতে পারবো। আমার কাছে অন্য কৃষকরা এই সার কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এই সার উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কাদের সরকার বাসসকে বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আমরা ওই কৃষককে ভার্মি কম্পোস্টের একটি প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তার পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতা দ্বারা সফলভাবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও তার নিজ জমিতে তা প্রয়োগ করে বাণিজ্যিক কৃষিতে লাভ করছেন। সমিজ উদ্দিন অন্য কৃষকদের জন্য উদাহরণ হতে পারেন।

তিনি জানান, ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার হলো শতভাগ প্রাকৃতিক জৈব সার, যা কেঁচো দ্বারা জৈব বর্জ্য বা গোবর পরিচয়ে তৈরি করা হয়। এটি মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে, গাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন, আমরা এখন টেকসই কৃষির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জমিকে দীর্ঘদিন উর্বর রাখতে আমরা ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। আমাদের কৃষকরা এই সার ব্যবহার করলে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।