শিরোনাম

/ওমর ফারুক /
রাজশাহী, ২৩ মে ২০২৬ (বাসস): মহানগর ও আশেপাশের উপজেলাগুলোতে জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রখর রোদের কারণে সৃষ্ট এই অস্বস্তিকর গরমে তৃষ্ণা মেটাতে মানুষ নির্ভর করছে প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর। গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাজশাহী মহানগরীর সর্বত্র এখন কদর বেড়েছে কচি তালের শাঁসের।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত হওয়ায় সব বয়সী মানুষের প্রথম পছন্দ এখন প্রকৃতির এই রসালো উপহার।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, রেল স্টেশন চত্বর, লক্ষ্মীপুর মোড়, ভদ্রা মোড়, কোর্ট চত্বর, তালাইমারী ও আলুপট্টিসহ নগরীর অলিগলিতে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে কচি তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমের কারণে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এসব দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের চাহিদাও তত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
আকারভেদে প্রতিটি কচি তাল (যার ভেতরে ৩ থেকে ৪টি শাঁস থাকে) বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকায়।
আবার অনেক জায়গায় প্রতি পিস শাঁস খুচরা ৫ থেকে ৮ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকায় তালের শাঁস কিনতে আসা সুরমা নামের এক পথচারী বলেন, বাইরে প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম। ডাবের দাম অনেক বেশি। ডাব এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সেই তুলনায় তালের শাঁস অনেক সাশ্রয়ী এবং এতে কোনো ভেজাল বা কেমিক্যাল থাকে না। এটি খেলে সহজেই তৃষ্ণা মেটে।
ব্যবসায়ী সাইফুল জানান, তারা খুব ভোরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট, তানোর এবং পবা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছচুক্তি কচি তাল সংগ্রহ করে মহানগরে নিয়ে আসেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে তালের দাম কিছুটা বেশি।
বাঘা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, গত বছর ১০০টি কাঁচা তাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় কেনা গেলেও, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। তার ওপর পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সরবরাহ ও চাহিদায় কোনো কমতি নেই।
চিকিৎসকদের মতে, কচি তালের শাঁসের প্রায় ৯০ শতাংশই জলীয় অংশ, যা তীব্র গরমে দ্রুত শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন 'সি'। যা লিভার সুরক্ষিত রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা দূর করে। তবে চিকিৎসকেরা ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কেটে রাখা শাঁস না খেয়ে, সরাসরি চোখের সামনে কেটে তা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দিনে দুই থেকে তিনটির বেশি তালের শাঁস খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমের সমস্যা হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র তাপ প্রবাহের এই সময়ে একদিকে যেমন তালের শাঁস মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে এই মৌসুমি ফল বিক্রি করে রাজশাহীর কয়েক শ' প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি হয়েছে।