বাসস
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪০

আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হতে পারে 

ছবি: বাংলাদেশ রেলওয়ে ফেসবুক পেইজ

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসলে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।

আজ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত ৩৮তম ইন্টার গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং শেষে রেল ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম জিয়াউল হক এ কথা জানান।

এ সময় ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের অ্যাডিশনাল মেম্বার (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা বলেন, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী মৈত্রী ট্রেন চালু করতে ইচ্ছুক ভারত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ (মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস) পুনরায় চালু এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য এই আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম জিয়াউল হক ও ভারতের পক্ষে দেশটির রেলওয়ে বোর্ডের অ্যাডিশনাল মেম্বার (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা নেতৃত্ব দেন। এতে বাংলাদেশের পক্ষে ১৫ সদস্য এবং ভারতের পক্ষে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক বলেন, স্থগিত থাকা ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো এজেন্ডা রাখা হয়নি। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের মূল উদ্যোগ ভারতীয় পক্ষকেই নিতে হবে। ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রস্তাব আসার পর এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন মিললেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কেবল যাত্রীবাহী ট্রেন নয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য ও ক্রস-বর্ডার ট্রেন চলাচল রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করা, পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানো, বিভিন্ন ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, ওয়াগনের হায়ার চার্জ কমানো, টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস এবং পুরাতন ওয়াগনের পরিবর্তে নতুন ওয়াগন পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে আগে চলাচলকারী তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনের বিষয় তুলে ধরে জিয়াউল হক জানান, দুই বছর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এই সেবা বন্ধ করেছিল। এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো এজেন্ডা রাখা হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে সদ্য নির্মিত পদ্মা সেতু দিয়ে ঘুরিয়ে পরিচালনার (রি- রুট) একটি এজেন্ডা প্রস্তাব করা হয়েছিল।

পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি রুট। নতুন ব্রিজে ট্রেন চালাতে গেলে সেটির ক্যাপাসিটি এবং রুট পরিবর্তনের বেশ কিছু টেকনিক্যাল বিষয় পর্যালোচনার দরকার রয়েছে। পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন গেলে যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে, তবে দূরত্বের পরিবর্তনের সাথে ভাড়া সমন্বয়ের প্রশ্নটিও যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধার পাশাপাশি পদ্মা রুট ব্যবহার করলে ট্রেনের দিক পরিবর্তনের জন্য ক্রসওভারের সুবিধাসহ কমলাপুর স্টেশনের বর্তমান ক্যাপাসিটি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ট্রেনের চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে এককভাবে আন্তর্জাতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে প্রস্তাব পাঠালে বাংলাদেশ তা মূল্যায়ন করবে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বন্ধন ও মিতালি এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই এবারের বৈঠকে কোনো এজেন্ডা ছিল না বলে জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই ট্রেনগুলো বন্ধ করেনি। ফলে পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে সাড়া বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের জন্যই ঢাকা অপেক্ষা করছে। 

বৈঠকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্পর্কের বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে নির্ধারিত হয়। তবে দুই দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পেশাদার সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল।

আগরতলা-আখাউড়া রেললাইনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল হক বলেন, পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রুটে ট্রেন চালানোর জন্য ভারতীয় পক্ষকে একটি বাস্তবসম্মত ডিমান্ড প্রজেকশন বা চাহিদার নথিপত্র দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মিটিং থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন আপডেট বা যোগাযোগ আসেনি। বৈঠকে তাদের পূর্বের সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দীপক কুমার ঝা জানান, যৌথ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ অংশের প্রস্তাব অনুযায়ী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পদ্মা সেতু দিয়ে চালুর বিষয়টি ভারতীয় এজেন্ডার অংশ ছিল।