বাসস
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩০

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়ায় জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশ মন্ত্রী

ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়ায় জোরালো আঞ্চলিক  সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ এবং যৌথ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

আজ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক-এর প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য প্রদানকালে এসব তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। 

সীমান্ত, পরিবহন ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটর্ফম এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অপরাধী চক্র আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তদন্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। 

তাঁর মতে, প্রতিটি জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন—বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

মন্ত্রী অনলাইন বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং মানি লন্ডারিং বিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান।

বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জব্দকৃত জীবন্ত বন্যপ্রাণীর প্রত্যাবাসনেও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তিনি আহ্বান জানান।

দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত কৌশলগত পরিকল্পনা এসব অগ্রাধিকারকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দেবে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক-এর এই প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাঠমান্ডু থেকে সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে ফিরে যাবে।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক-এর সকল সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে নেপালের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গীতা চৌধুরী, দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক এর মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রাসাদ আচার্য এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।