বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৭

সাভারে এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা : আরও ৮ আসামি রিমান্ডে

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আরও আট আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪) ও মো. গোলাম রাব্বির (২২) পাঁচ দিন করে এবং বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ার হোসেনের (৩৩) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

আজ আসামিদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই মামলায় প্রধান আসামি জহুরুলকে (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আবুল কালাম আজাদের অটো গ্যারেজের সামনে এক চালকের অটোরিকশা রাখা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় ওই বাগ্বিতণ্ডা থামাতে ও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে গেলে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন ছুটি কাটাতে আসা পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন।

পরবর্তী সময়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশে থাকা তার ছেলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ গিয়ে আশ্রয় নেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আলতাফ হোসেনকে রড, লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে দুষ্কৃতকারীরা। হামলাকারীরা দোকানটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।