বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪০
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৭

মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাপানের বিশেষ দূত সাসাকাওয়ার সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ

ছবি : ইউনূস সেন্টার

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া গতকাল ইউনূস সেন্টারে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকে মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জাপানের সম্মানিত চেয়ারের সেক্রেটারি শোতা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা, দোভাষী কিমিয়ো মাচিদা, সেন্টার ফর মিডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ও রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকা।

বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সাসাকাওয়া জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা করেন।

তিনি প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, সম্পদের কেন্দ্রীভবন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কোনো একক দেশের পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; এজন্য বিভিন্ন দেশের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা মানবিক সংকট ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। মিয়ানমারে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং মানবিক ও শান্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, তিনি শান্তি ও সংলাপ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অব্যাহতভাবে অবদান রাখতে পারবেন।

প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুস্পষ্ট আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।

সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তার উপায় খুঁজে দেখবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের উপকূলীয় সম্ভাবনা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উন্নত বন্দর অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী তৈরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল ও প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক শান্তির ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।