শিরোনাম

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন ঠিক থাকবে। তাদের শেখার সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে। এ কারণে বলা যায়, শিশুপুষ্টির উন্নয়ন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
প্রতিটি শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাসে পুষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু প্রথমত মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পুষ্টি পায়। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি পরিপূরক খাদ্য দিতে হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু খর্বকায় ও কৃশকায় হচ্ছে। এ ধরনের শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অপেক্ষাকৃত কম থাকে। ফলে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার আগে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত পয়োনিস্কাশন নিশ্চিত করতে হবে। মাতৃদুগ্ধ পানে জোর দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের সবকয়টি উপাদান সচল রাখার জন্য পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। দুধ হলো তাদের মধ্যে অন্যতম একটি খাবার, যার কোনো বিকল্প নেই। দেহ গঠনের প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন দুধে পাওয়া যায়। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য প্রতিদিন দুধ অপরিহার্য। শিশু ও বাড়ন্ত বয়সে হাড়, দাঁতের গঠন ও মজবুতের জন্য এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধ করার জন্য দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন সবার আগে। কেননা এই বয়সি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তারা পড়ালেখা ভালো করে। খর্বাকৃতি ও ওজন স্বল্পতার মতো শারীরিক জটিলতাও কমে আসে। আমাদের দেশে অপুষ্টির প্রধান কারণ হচ্ছে, অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতা।
এ ছাড়া অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্যদ্রব্যের সহজলভ্যতাও কমে যায়। ফলে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা স্বাভাবিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। আর্থিক কারণে প্রয়োজনীয় খাবার খেতে না পারায় অপুষ্টির শিকার হয় অনেকে। আবার সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরাও অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্কফুড খাওয়ায় অপুষ্টির শিকার হতে পারে।
পুষ্টিকর খাবার শুধু খাদ্যই নয়, ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। খাদ্য নিরাপদ হওয়া জরুরি। আগে আমাদের খাদ্যাভাব ছিল। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে খাদ্যাভাব অনেক করেছে; কিন্তু নানা প্রকার রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে। দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে এখন রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
দেশের মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিয়ে জ্ঞানের অভাবই মূলত দায়ী, অর্থনৈতিক কারণ নয়। অনেকেরই ধারনা বেশি বেশি দুধ ও মাংস খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু প্রতিটি মানুষেরই সুষম খাবার অর্থাৎ খাদ্যের সব কয়টি উপাদানের উপস্থিতি খাবারে থাকতে হবে, এমন খাবার খাওয়া উচিত। সে জন্য মাংস ও দুধের পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, সবজি, ফলমূল সবই খেতে হবে।
সার্বিকভাবে দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পূরক খাবার খাওয়ানো, ছয় মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো এই কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তাহলে শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। কিশোর বয়সে অপুষ্টির শিকার কম হবে। ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল, শাকসবব্জি, দেশীয় ফলের আবাদ বাড়াতে হবে। দেশের পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য সরকারের সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।