শিরোনাম

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা অভিযান একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী জোন-৩ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিশেষ ‘পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ’ উদ্বোধনকালে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিএনসিসি’র প্রতিটি জোনে ‘ক্লিন উইক’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ মহাখালীতে বিশেষ পরিচ্ছন্ন সপ্তাহের কার্যক্রম শুরু হলো।
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন তাদের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। তবে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমে বিশাল এই নগরীকে পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকা ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত এবং এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। ফলে নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি নাগরিকদের চলার পথে টিস্যু, প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও বাড়ির সামনের আঙিনা পরিষ্কার রাখার অনুরোধ করেন।
প্রশাসক বলেন, ‘প্রত্যেকে যদি নিজের বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখেন, তাহলে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; এটি নগরবাসীরও সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব। মানুষের অভ্যাস ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন ঢাকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষ পরিচ্ছন্ন সপ্তাহের উদ্বোধনের পর ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানীর নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী।
এ সময় ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মো. হুমায়ুন কবির, সচিব মো. আসাদুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ‘ক্লিন উইক’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি জোনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে এসব উদ্যোগ সমন্বয় করে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।