বাসস
  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৯
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০৩

প্রযুক্তির ব্যবহারে জুলাইয়ে এপিবিএনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য

ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটা। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ দমন ও জনগণকে দ্রুত সেবা দিতে গিয়ে জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

এ সময় এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৮৪৪টি মোবাইল ফোন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা, ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ, বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ রোববার উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অপরাধ দমন, দ্রুত সেবা প্রদান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় বিভিন্ন ইউনিট পরিচালিত অভিযানে এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এ সময়ে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, দুটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি খাদ্যদ্রব্যসহ আরও ৪১১ কেজি বিভিন্ন ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের আওতায় চারটি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত সমস্যা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একটি ফেক আইডিসংক্রান্ত অভিযোগেরও সমাধান করা হয়। এ ছাড়া প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম ও একটি ফেসবুক আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৪৮টি টি-শার্ট এবং একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। সাইবার বুলিং-সংক্রান্ত দুটি সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সারা দেশে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আসমা বেগম রিটা জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি ভেপ সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা বা হাসুয়া এবং একটি দেশীয় লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৩৩১টি মামলা দায়ের করে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন এবং এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় দুজন, অপহরণ মামলায় তিনজন ও ধর্ষণ মামলায় দুজন রয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক এবং ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জুলাই মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসমা বেগম রিটা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে এপিবিএন ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।