বাসস
  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৭

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ শুরু

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঠাকুরগাঁওয়ে আখচাষের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) উদ্যোগে ‘আখের সঙ্গে সবুজের বন্ধন’ প্রত্যয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল গেটসংলগ্ন পাইকপাড়া ও চিলারং এলাকায় আখ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়। 

মো. শামছুজ্জামান সুরুজ আজ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

উদ্বোধনকালে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান কৃষকদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, জমির আইল ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো.শামছুজ্জামান বলেন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কার্বন শোষণ বাড়ানোর পাশাপাশি বায়ুর মান ও পরিবেশের ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চর ও সরকারি বনভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্যা, খরা ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষ ও জলাধারভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় সবুজ আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের  লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি চারা আজ ছোট হলেও সময়ের সঙ্গে সেটিই ছায়া, অক্সিজেন ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় হয়ে উঠবে। তাই প্রতিটি বাড়ির আঙিনা থেকে কৃষকের জমির আইল—সবখানেই গাছ লাগাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আখের মাঠে শুরু হওয়া এই সবুজায়ন একদিন পুরো ঠাকুরগাঁওয়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএসএফআইসি সূত্র জানায়, কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি চিনিকলে ১ হাজার করে গাছ রোপণ করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ১৫টি চিনিকলে মোট ১৫ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়। একই সঙ্গে বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ২৫ কোটি চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে তুলা চাষে অংশ নেওয়া চিলারং গ্রামের কৃষক মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আখের জমিতে সাথী ফসল চাষ কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি জমির চারপাশে গাছ লাগালে পরিবেশও সুন্দর হয়।

আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আফজাল হোসেন বলেন, কৃষকের মাঠ শুধু ফসল উৎপাদনের জায়গা নয়, দেশের সবুজ ভবিষ্যৎ তৈরিরও অংশ। তাই আখচাষের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।