শিরোনাম

ময়মনসিংহ, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠন, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আজ শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ অফিসার্স ক্লাবে শহরের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দ্য স্পোর্টিভা’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’সহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার কার্যক্রমের প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবার ১০টি ইভেন্টে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করা হবে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ন্যায় খাল খনন কর্মসূচিও বর্তমান সরকার শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
ময়মনসিংহে ক্রীড়া অবকাঠামো প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের ২২টি জেলায় থাকা সুইমিং পুলগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ময়মনসিংহের সুইমিং পুলের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পানিতে দুর্ঘটনা থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক জেলায় নতুন অবকাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আট বিঘা জমি না হলেও ছোট পরিসরের উপযুক্ত জায়গাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে এটাই সরকারের লক্ষ্য।
ময়মনসিংহে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৩৫ একর জায়গাকেও ক্রীড়া কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পদকের জন্য লড়াই করতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবহেলা না করে তাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্য থেকেও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে পদক জয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারা ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছর পর দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ, ৬৪টি জেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো, প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বক্তব্য শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দ্য স্পোর্টিভা’র উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, দ্য স্পোর্টিভার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এ কে এম ফেরদৌস।
এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, ফুটবলপ্রেমী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে, টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালে সাফ গোল্ডকাপ (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ) স্বর্ণপদক জয়ী দলের সাথে প্রতিমন্ত্রী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সিটি প্রশাসক অংশ নেন।