বাসস
  ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৬
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:৩৩

নীলফামারীর উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান ইঞ্জিনিয়ার তুহিনের

Photo: BSS

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেছেন, নীলফামারীর উন্নয়নে জেলার শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষের মধ্যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা নীলফামারীর মানুষকে একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্ত করা গেলে জেলার শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘নেটওয়ার্ক অব ইয়াং নীলফামারীয়ান (এনওয়াইএন)’ আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ছবি: বাসস

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা যদি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার বাবা ১৯৫০ সালে এর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে বিভিন্ন দেশে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনা তাকে উপলব্ধি করিয়েছে যে, মানুষের আগ্রহ, পরিশ্রম ও শক্তি থাকলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

নীলফামারীর মানুষের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সাল থেকে নীলফামারীর মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে আসছি। জেলার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও ভালোবাসা থেকেই এই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’

এ সময় তিনি নীলফামারীর মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায়ে সহযোগিতা করার কথাও উল্লেখ করেন। 

নীলফামারীর উন্নয়নে আরও বেশি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর যেভাবে উন্নয়নমূলক সুযোগ নিতে পেরেছে, নীলফামারীকেও সেভাবে এগিয়ে নিতে হবে।’

এ জন্য নীলফামারীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশায় থাকা নীলফামারীর মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, ‘নীলফামারীর উন্নয়নকে ফেলে রাখা যাবে না। জেলার উন্নয়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নীলফামারীর শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করেন এবং নিজেদের জেলার উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসেন, তবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’

পরে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নীলফামারী জেলার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত তহবিলে ১ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তার সহধর্মিণী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না জামান বলেন, ‘মানবসেবা একটি বড় দায়িত্ব। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহযোগিতা করার বিষয়টি কখনো ভুলে গেলে চলবে না। প্রত্যেকে যে যে পেশায় থাকুক না কেন, সেখান থেকেই মানবসেবায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করতে হবে।’

নীলফামারী জেলার তরুণদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী রুহুল আমিন। 

তিনি বলেন, ‘এই নেটওয়ার্ক শুধু নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নীলফামারীর পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।’